নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ | 30 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রপ্তানিমুখী বস্ত্র খাতের কোম্পানি রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেডের অব্যবহৃত আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) তহবিল ব্যবহারের জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এক মাস সময় দিয়েছে হাইকোর্ট।
কোম্পানিটি গত ৪ জুন বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ বিষয়ে আদালতের জারি করা রুল নিসির তথ্য অবহিত করে। রিট পিটিশন নম্বর-২৮৭২/২০২৬-এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ রুল জারি করেছে।
রিং শাইন টেক্সটাইলসের দাবি, শেয়ারহোল্ডারদের প্রায় সর্বসম্মত অনুমোদন পাওয়া সত্ত্বেও তারা অবশিষ্ট আইপিও তহবিল ব্যবহার করতে পারছে না। এর ফলে কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটি (বেপজা)-এর পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্লট হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ২৭তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) উপস্থিত শেয়ারহোল্ডারদের ৯৯ দশমিক ৯৯৪ শতাংশ ভোটে একটি বিশেষ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। ওই প্রস্তাবে অব্যবহৃত আইপিও তহবিল ব্যবহারের সময়সীমা আরও এক বছর বাড়ানো এবং সুদসহ প্রায় ৩৬ লাখ মার্কিন ডলারের অবশিষ্ট তহবিল সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়।
রিং শাইন জানিয়েছে, এজিএমের কার্যবিবরণী, ই-ভোটিং রিপোর্ট, মূল্যসংবেদনশীল তথ্যসহ প্রয়োজনীয় সব নথি বিএসইসিতে জমা দেওয়া হলেও কমিশনের পক্ষ থেকে তহবিল ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে একাধিক আবেদন করা হলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। ফলে ব্র্যাক ব্যাংকে সংরক্ষিত আইপিও তহবিলের হিসাব এখনো স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।
সব ধরনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণের পর কোম্পানিটি গত ১১ মে সংবিধানের ১০২(২) অনুচ্ছেদের আওতায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রুল নিসি জারির অর্থ হলো আদালত বিষয়টিকে বিচারিক পর্যালোচনার উপযুক্ত বলে বিবেচনা করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
রিং শাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ পিয়াল গণমাধ্যমকে বলেন, বিএসইসির সব বিধি-বিধান এবং করপোরেট গভর্ন্যান্সের শর্ত পূরণ করেই কোম্পানি সংশোধিত তহবিল ব্যবহার পরিকল্পনা শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করেছিল।
তার মতে, প্রায় ৩৩ লাখ মার্কিন ডলারের অব্যবহৃত আইপিও তহবিল দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে, বেপজার কাছে বকেয়া অর্থের ওপর বছরে ২৪ শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপ করা হচ্ছে। বকেয়া পরিশোধ না করায় বেপজা ইতোমধ্যে কোম্পানির কয়েকটি শিল্প প্লটের ইজারা বাতিল করেছে।
কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, ঢাকা ইপিজেডে অবস্থিত ২৩১-২৩৬ এবং ১৫৭-১৬৩ নম্বর শিল্প প্লটের ইজারা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি প্লটের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বাতিল নোটিশ জারি করা হয়েছে। এসব প্লট হারালে কোম্পানিটি তাদের মোট জমির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে, যা উৎপাদন কার্যক্রম, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, রিং শাইন টেক্সটাইলস ২০১৯ সালে আইপিওর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে। সংগৃহীত অর্থ ব্যবসা সম্প্রসারণ, যন্ত্রপাতি ক্রয়, ঋণ পরিশোধ এবং কার্যকরী মূলধনের চাহিদা পূরণে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরবর্তীতে ব্যবসায়িক বাস্তবতার পরিবর্তন এবং ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এরপর অবশিষ্ট তহবিল ব্যবহারের পরিকল্পনা সংশোধনকে কেন্দ্র করে কোম্পানি ও বিএসইসির মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়, যা শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
Posted ৪:০৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.