নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ | 1 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: চলমান একীভূতকরণ (মার্জার) প্রক্রিয়ার মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইনট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী সম্পদ ও আর্থিক তথ্য খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো— এম হাই অ্যান্ড কোং সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড, নেসা অ্যান্ড সন্স লিমিটেড এবং গুড সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড।
বিএসইসির জারি করা এক আদেশ অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেনকে। এছাড়া সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম ও অমিত অধিকারীকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
কমিটিকে আদেশ জারির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্তে ২০২২ সালের ৩০ জুন থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের আর্থিক বিবরণী ও স্থায়ী সম্পদের হিসাব পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে প্রস্তাবিত একীভূতকরণের আগে সম্পদের মূল্যায়ন এবং সম্পদের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিএসইসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একীভূতকরণ প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর স্থায়ী সম্পদের প্রকৃত অবস্থা ও মূল্য নির্ধারণ করতে চায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারের স্বার্থে মার্জার পরিকল্পনার বিভিন্ন দিকও পর্যালোচনা করবে তদন্ত দল।
তিনি আরও বলেন, সার্বিক পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই একীভূতকরণ পরিকল্পনা সম্পর্কে কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
গত এপ্রিল ২০২৫ সালে ইনট্রাকো রিফুয়েলিং বিনিয়োগকারীদের জানায়, হাইকোর্ট কোম্পানিটির সঙ্গে তালিকাবহির্ভূত তিনটি প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণ অনুমোদন করেছে। এর আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারহোল্ডাররা বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) এ প্রস্তাবে অনুমোদন দেন।
মামলার শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট একীভূতকরণ স্কিম অনুমোদন করে। পরে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ কোম্পানিটি আদালতের চূড়ান্ত আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি গ্রহণ করে।
ইনট্রাকো রিফুয়েলিং পূর্বে জানিয়েছিল, সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকাভুক্ত নয়। ফলে তাদের ওপর তালিকাভুক্ত কোম্পানির তুলনায় বেশি হারে কর আরোপ হয়। এছাড়া একীভূত ব্যবস্থাপনা কাঠামো চালু হলে প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় কমবে এবং সামগ্রিক মুনাফা বাড়বে বলেও দাবি করে কোম্পানিটি।
কোম্পানির সেক্রেটারি জি এম সালাহউদ্দিন জানান, বিএসইসি ইতোমধ্যে কোম্পানির স্থায়ী সম্পদ পর্যালোচনা শুরু করেছে। তদন্ত দলের সঙ্গে কোম্পানি পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূমি, ভবন, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের মতো স্থায়ী সম্পদ কোনো প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি মূল্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব সম্পদের মূল্যায়নে অনিয়ম বা অতিমূল্যায়ন থাকলে তা কোম্পানির ব্যালেন্স শিট, মুনাফা, নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) এবং বাজারমূল্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের ভাষ্য, একীভূতকরণের আগে এ ধরনের তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সম্পদের অতিরঞ্জিত বা অসঙ্গত মূল্যায়ন একীভূত প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থান ও বাজারমূল্যকে বিকৃত করতে পারে।
এদিকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ইনট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের রাজস্ব আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ কমে ২১ কোটি ৭২ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। এ সময়ে কোম্পানিটি ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার নিট লোকসান করেছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছিল।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি কেবল সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। স্পন্সর ও পরিচালকরা এ লভ্যাংশের আওতার বাইরে রয়েছেন।
২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে স্পন্সর ও পরিচালকদের হাতে ছিল ৩০ দশমিক ০৬ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ছিল ২১ দশমিক ৭১ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ছিল ৪৮ দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার।
Posted ৯:৩৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.