নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ | 28 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোতে এক বছরের ব্যবধানে আমানতের পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের মার্চ মাসে এক মাসের ব্যবধানে আমানত বেড়েছে ২ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে দেশে পরিচালিত ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চ শেষে সেই আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৫৪২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে নতুন আমানত যোগ হয়েছে ২৫ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা।
এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি শেষে ইসলামী ব্যাংকগুলোর মোট আমানত ছিল ৪ লাখ ৬ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মার্চ শেষে তা বেড়ে ৪ লাখ ৮ হাজার ৫৪২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সে হিসাবে মার্চ মাসেই আমানত বেড়েছে ২ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কারণে ইসলামী ব্যাংকগুলোর প্রতি সাধারণ গ্রাহকের আস্থা ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। বিশেষ করে আগে অনিয়ম ও বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়ে পড়া ব্যাংকগুলোতে স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত পাওয়ায় গ্রাহকরা আবারও আমানত রাখতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
তবে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। নতুন বিধানে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর সাবেক মালিক বা শেয়ারহোল্ডারদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক সহায়তার পুরো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে আগের মালিকদের আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ফেরার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে। এতে অনেক গ্রাহকের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, অতীতে যাদের অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলো সংকটে পড়েছিল, তারাই আবার ব্যবস্থাপনায় ফিরে আসতে পারেন।
খাতসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ইসলামী ব্যাংকগুলোর প্রতি গ্রাহকের যে আস্থা ধীরে ধীরে ফিরছিল, বিতর্কিত পুরোনো মালিকরা ফিরে এলে সেই আস্থা আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু গ্রাহক আমানত তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসী আয়, আমদানি বিল পরিশোধ এবং রপ্তানি আয়—সব ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক, প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামিক শাখা ও উইন্ডোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছিল ৬৩ কোটি ডলার। মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ কোটি ডলারে। অর্থাৎ, এক মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৬ কোটি ডলার।
একই সময়ে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি বিল পরিশোধ ৮৫ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৮৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, এক মাসে আমদানি বিল পরিশোধ বেড়েছে ২ কোটি ডলার।
এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে রপ্তানি আয় ছিল ৬০ কোটি ডলার। মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ কোটি ডলারে। ফলে এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১ কোটি ডলার।
Posted ৯:০৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.