শনিবার ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সপ্তাহজুড়ে ২৩ কোম্পানির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ০২ মে ২০২৬ | 1 বার পঠিত | প্রিন্ট

সপ্তাহজুড়ে ২৩ কোম্পানির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ : বিদায়ী সপ্তাহে (২৬-৩০ এপ্রিল) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ২৩টি কোম্পানি ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের (প্রথম প্রান্তিক) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত ফলাফলে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে—কোনো কোম্পানি লাভের ধারা বজায় রেখেছে, আবার অনেক ব্যাংক ও একটি সিমেন্ট কোম্পানি লোকসানে পড়েছে। ডিএসই ও কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংক খাত: লোকসান ও ক্ষীণ প্রবৃদ্ধির দ্বন্দ্ব
ব্যাংক খাতের ১১টি কোম্পানি তাদের প্রথম প্রান্তিকের ফল প্রকাশ করেছে। এতে শীর্ষ কিছু ব্যাংক প্রবৃদ্ধি দেখালেও এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক স্থূল লোকসানে রয়েছে।

Responsive Ad Banner

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় এবি ব্যাংক
অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি’২৬-মার্চ’২৬) এবি ব্যাংকের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ২২ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ের ২ টাকা ৮৫ পয়সা লোকসানের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ ৫ টাকা ৫০ পয়সা পজিটিভ থাকলেও শেয়ারপ্রতি নিট দায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ টাকা ৩১ পয়সায়। অর্থাৎ ব্যাংকটির সম্পদের তুলনায় দায় অনেক বেশি—যা বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগজনক।

ন্যাশনাল ব্যাংকেও লোকসান
ন্যাশনাল ব্যাংক জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান দেখিয়েছে ৩ টাকা ৫২ পয়সা। গত বছর একই সময়ে লোকসান ছিল মাত্র ৬৯ পয়সা। অর্থাৎ লোকসানের পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। ব্যাংকটির নগদ প্রবাহও ঋণাত্মক (মাইনাস ১ টাকা ৪৩ পয়সা)।

যে ব্যাংকগুলো মুনাফা বাড়িয়েছে
লোকসানের বিপরীতে মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৮১ পয়সা ইপিএস অর্জন করেছে (আগের বছর ৭৯ পয়সা)। যদিও প্রবৃদ্ধি কম, তবে নগদ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৪ পয়সা থেকে ৮ টাকা ২১ পয়সায় পৌঁছেছে।

যমুনা ব্যাংক ১ টাকা ৯৪ পয়সা ইপিএস পেয়েছে (আগের বছর ১ টাকা ৯১ পয়সা)। এছাড়া ডাচ-বাংলা ব্যাংক ২ টাকা ৭০ পয়সা ইপিএস দেখিয়েছে, যা আগের বছর পুনঃনির্ধারিত ৯২ পয়সার তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ১ টাকা ১২ পয়সা ইপিএস অর্জন করেছে (আগের বছর ১ টাকা ৪ পয়সা)। মিডল্যান্ড ব্যাংক ১৭ পয়সা (আগের বছর ১৬ পয়সা) এবং প্রাইম ব্যাংক ১ টাকা ৭৯ পয়সা (আগের বছর ১ টাকা ৮০ পয়সা) স্থিতিশীল মুনাফা দেখিয়েছে।

এসবিএসি ব্যাংক ইপিএস ১৪ পয়সা ধরে রেখেছে, তবে নগদ প্রবাহ আগের বছর ১১ টাকা ২৬ পয়সা থেকে কমে ১ টাকা ৫৬ পয়সায় নেমেছে।

বীমা খাত: মুনাফা বাড়লেও নগদ প্রবাহে চাপ
বীমা খাতের ১১টি কোম্পানি প্রান্তিক ফল প্রকাশ করেছে। বেশিরভাগেরই ইপিএস বেড়েছে, তবে নগদ প্রবাহের অবস্থা উদ্বেগজনক।

স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস ৬৯ থেকে বেড়ে ৭১ পয়সা হয়েছে, কিন্তু নগদ প্রবাহ ৩৯ পয়সা পজিটিভ থেকে মাইনাস ৫৬ পয়সায় নেমে গেছে। একই চিত্র কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সে: ইপিএস ৩৯ থেকে বেড়ে ৪৯ পয়সা হলেও নগদ প্রবাহ ৭ পয়সা পজিটিভ থেকে মাইনাস ২০ পয়সায়।

প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স ইপিএস ৩৮ থেকে বাড়িয়ে ৪৯ পয়সা করলেও নগদ প্রবাহ আগের বছর ৭০ পয়সা পজিটিভ থেকে এখন মাইনাস ৮৭ পয়সা। একই চিত্র মেঘনা ইন্স্যুরেন্সে: ইপিএস ৩৮ থেকে বেড়ে ৪৭ পয়সা, কিন্তু নগদ প্রবাহ ১ টাকা ৯০ পয়সা পজিটিভ থেকে মাইনাস ৭৬ পয়সায়।

রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স ২ টাকা ৮৮ পয়সা ইপিএস নিয়ে সবার মধ্যে সেরা মুনাফা করেছে। তবে এর নগদ প্রবাহ ৭ টাকা ৮৪ পয়সা থেকে কমে ৩৫ পয়সায় নেমেছে।

ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স ইপিএস ৩৪ থেকে ৪৬ পয়সা এবং নগদ প্রবাহ ১৮ পয়সা অপরিবর্তিত রেখেছে। সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স ইপিএস ৪৩ থেকে ৪৮ পয়সা বাড়ালেও নগদ প্রবাহ ৯ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে কমে ৭১ পয়সায় নেমেছে।

প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স ১ টাকা ১৮ থেকে ১ টাকা ২১ পয়সা ইপিএস এবং নগদ প্রবাহ ২৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৯৪ পয়সা করেছে, যা ইতিবাচক।

সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ইপিএস ৯০ থেকে বেড়ে ১ টাকা ১০ পয়সা ও নগদ প্রবাহ ১ টাকা ১৬ থেকে বেড়ে ১ টাকা ৩০ পয়সা হয়েছে।

সিমেন্ট খাত: হাইডেলবার্গ সিমেন্টে বড় ধস
হাইডেলবার্গ সিমেন্ট প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ৮৮ পয়সা লোকসান দেখিয়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে লাভ ছিল ৩ টাকা ৪৮ পয়সা। তবে নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৭ টাকা ৪৯ পয়সা পজিটিভ হয়েছে।

বহুজাতিক খাত: রেকিট বেনকিজারের মুনাফা কমেছে
রেকিট বেনকিজার ৩২ টাকা ৪৩ পয়সা ইপিএস থেকে কমে ২৩ টাকা ২৬ পয়সা করতে সক্ষম হয়েছে। নগদ প্রবাহ ৭৯ টাকা ৬৪ পয়সা থেকে সামান্য কমে ৭৫ টাকা ৬০ পয়সা হয়েছে। তবে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ২১০ টাকা ৮৫ পয়সা, যা পুঁজিবাজারে সবচেয়ে উচ্চতমের একটি।

বিনিয়োগকারীদের করণীয়
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথম প্রান্তিকের ফলাফল বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট যে ব্যাংক ও বীমা খাতে নগদ প্রবাহের ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে যেসব কোম্পানি ইপিএস বাড়িয়েও নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক দেখাচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের সামনে ভবিষ্যতে লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অন্যদিকে, এবি ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে লোকসান এতটাই প্রকট যে স্বাভাবিক হতে তাদের দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের আগে ইপিএসের পাশাপাশি এনওসিএফপিএস ও এনএভিপিএসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box

Posted ৬:২৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০২ মে ২০২৬

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com