রবিবার ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাঁচ বছরে বেআইনিভাবে ৫৭ কোটি টাকা খরচ করেছে সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ০৮ জুলাই ২০২৪ | 176 বার পঠিত | প্রিন্ট

পাঁচ বছরে বেআইনিভাবে ৫৭ কোটি টাকা খরচ করেছে সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স
Responsive Ad Banner

বিশেষ প্রতিবেদক: গত পাঁচ বছরে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের নামে বেআইনিভাবে ৫৭ কোটি টাকা খরচ করেছে জীবন বীমা খাতের কোম্পানি সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এসব টাকার ৮০.৫ শতাংশই ব্যয় করা হয়েছে কমিশন ও বেতন-ভাতা দেয়ার নামে। যার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে খোদ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইডিআরএ)।

শুধু তাই নয় জীবন বীমা তহবিলের ৯০ ভাগ অর্থেরই খারাপ বিনিয়োগ করা হয়েছে। বিনিয়োগকৃত তহবিলের মাত্র সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ তারল্যে রূপান্তর করা যেতে পারে বলে তথ্য উঠে এসেছে আইডিআর’র এক প্রতিবেদনে।

Responsive Ad Banner

গতকাল রোববার সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়ে আইডিআরএ’র সভায় এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

আইডিআরএ বলছে, ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের নামে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত খরচ ও নবায়ন প্রিমিয়ামের হার দুই শতাংশেরও কম হওয়ায় গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধের সক্ষমতা হারাচ্ছে কোম্পানিটি।
এমনকি , কোম্পানিটিতে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় আইডিআরএ’র প্রতিবেদনে।

কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সকল সদস্য, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক, উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক এবং সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পক্ষে কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, সিএফও, কোম্পানি সেক্রেটারি ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সার্বিক কার্যক্রম গ্রাহকদের প্রতি প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য যথেষ্ট নয় বলে সভায় মন্তব্য করেছেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

সভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ ও ২০২৩ সালে যথাক্রমে ৪১.৩০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ ব্যবস্থাপনা খাতে নিয়মবহির্ভূত ব্যয় করেছে কোম্পানিটি।

অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের খাতওয়ারী চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সর্বোচ্চ ব্যয় হয় কমিশন ও বেতন
খাতে, যা মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ৮০.৫ শতাংশ।

এছাড়াও, কোম্পানির লাইফ ফান্ড, বিনিয়োগসহ অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, লাইফ ফান্ডের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ তারল্যে রূপান্তর করা যাবে এবং অবশিষ্ট তহবিল মানসম্মত বিনিয়োগ নয় । কোম্পানির দ্বিতীয় বর্ষের নবায়ন প্রিমিয়ামের হারও অনেক কম, যা মাত্র দুই শতাংশেরও কম। বীমা পলিসি গ্রহীতাগণ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সভায় উপস্থিত সদস্যবৃন্দ এজেন্টদের কমিশন নির্ধারিত সীমায় নিয়ে আসার বিষয়ে মতামত প্রদান করেন। এছাড়া, কোম্পানির লাইফ
ফান্ড যথাযথকরণ, যথাসময়ে বার্ষিক হিসাব প্রতিবেদন প্রস্তুত, তথ্যাদির নির্ভুলতা যাচাই করে কর্তৃপক্ষে দাখিল, নবায়ন প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপসহ এ সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়ে আলোকপাত করেন।প্রতিবেদনে বলা হয়, কোম্পানিটি নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত কমিশন প্রদান করছে।

এ ছাড়াও, বেতন ও কমিশন খাতে মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ৮০.৫ শতাংশ ব্যয় করা হচ্ছে, যার সঠিকতা সন্দেহজনক। এছাড়াও, কোম্পানির লাইফ ফান্ডের ৯০শতাংশই তারল্যে রূপান্তর যোগ্য নয়।

সভায় কোম্পানির গ্রেড অনুযায়ী কোম্পানির কর্মচারীদের নাম, পদবী ও বেতনের পরিমাণ সম্বলিত বিস্তারিত প্রতিবেদন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় ।

এ ছাড়াও প্রথম বর্ষ মোট প্রিমিয়াম ও তার উপর এজেন্ট কমিশন ও অন্যান্যদের কমিশনের পরিমাণ (পৃথকভাবে), প্রথম বর্ষ কমিশনের ১০% এর পরিমাণ, ইহার জন্য কী পরিমাণ দ্বিতীয় বর্ষে পরিশোধ করা হয়েছে ও তার প্রমাণক দাখিল করতে হবে; লাইফ ফান্ডের যে পরিমাণ অর্থ তারল্যে রূপান্তরযোগ্য নয়, তার পরিমাণ ও তা অবলোপন করতে হবে।

শেয়ারবাজার২৪

Facebook Comments Box

Posted ১২:৩৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৮ জুলাই ২০২৪

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com