নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১১ মে ২০২৬ | 18 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ক্লোজ-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডকে ওপেন-এন্ড বা বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের জন্য নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC)
। কমিশনের এ সিদ্ধান্তের পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহে অধিকাংশ ফান্ডের দর বেড়েছে এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ দরবৃদ্ধির তালিকায় ১০টির মধ্যে ৮টিই ছিল মিউচুয়াল ফান্ড।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বেশিরভাগ ক্লোজ-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড তাদের প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) থেকে অনেক কম দামে লেনদেন হচ্ছিল। নতুন নির্দেশনার ফলে এসব ফান্ডে তারল্য বাড়বে এবং বাজারদর ও এনএভির মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান কমে আসবে—এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে সক্রিয় হয়েছেন।
বিএসইসির জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ক্লোজ-এন্ড ফান্ডের বাজারদর যদি টানা ছয় মাস ধরে তার এনএভি বা অভিহিত মূল্যের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি কম থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টিকে ইউনিটহোল্ডারদের নিয়ে বিশেষ সাধারণ সভা (এসজিএম) আয়োজন করতে হবে। সেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ইউনিটহোল্ডাররা সিদ্ধান্ত নেবেন ফান্ডটি ওপেন-এন্ডে রূপান্তর করা হবে নাকি অবসায়নের পথে নেওয়া হবে। অন্তত ৭৫ শতাংশ ইউনিটহোল্ডারের সম্মতি মিললে রূপান্তর কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
তথ্যমতে, বর্তমানে বাজারে থাকা ৩৪টি ক্লোজ-এন্ড ফান্ডের মধ্যে প্রায় ২২টি এই নীতিমালার আওতায় পড়তে পারে। আগামী ১২ মে সংশ্লিষ্ট ছয় মাসের সময়সীমা পূর্ণ হচ্ছে। ফলে চলতি সপ্তাহেই বেশ কয়েকটি ফান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দিনের লেনদেনে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়। IFIC Islamic Mutual Fund-1
, First Bangladesh Fixed Income Fund
, PHP First Mutual Fund
, AB Bank 1st Mutual Fund
এবং Trust Bank 1st Mutual Fund
—সবগুলোর ইউনিটদর ১০ শতাংশ বেড়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যায়। এছাড়া NCCBL Mutual Fund-1
, EBL NRB Mutual Fund
এবং LR Global Bangladesh Mutual Fund One
–এর দরও ৯ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।
নতুন নীতিমালায় রূপান্তর প্রক্রিয়ার ব্যয়ও নির্ধারণ করে দিয়েছে কমিশন। নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়ায় ফান্ডের মোট আকারের সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পর্যন্ত খরচ করা যাবে। এর মধ্যে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি পাবে ০.৫০ শতাংশ এবং ট্রাস্টি সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফি নিতে পারবে।
এছাড়া বাজারে কারসাজি প্রতিরোধে ভোটগ্রহণের রেকর্ড ডেট ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট ফান্ডের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিধানও রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংস্কারের ফলে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। একই সঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজনে সহজে তাদের বিনিয়োগ নগদায়নের সুযোগ পাবেন। বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং দীর্ঘদিনের অকার্যকারিতা দূর করে বাজারে গতিশীলতা আনাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
Posted ১২:২২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১১ মে ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.