ব্রেকিং >>
ব্রেকিং >>

পুঁজিবাজারে এক বছরে বড় পরিবর্তনের আশা বিএসইসি চেয়ারম্যানের

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | 10 বার পঠিত | প্রিন্ট

পুঁজিবাজারে এক বছরে বড় পরিবর্তনের আশা বিএসইসি চেয়ারম্যানের
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। বাজারকে আরও গভীর, সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও ন্যায্য করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে ভালো ও বড় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (৪ আগস্ট) ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) সদস্যদের জন্য আয়োজিত আবাসিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সিএমজেফের সভাপতি মনির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব রাসেল উপস্থিত ছিলেন।

Responsive Ad Banner

আত্মবিশ্বাসী বিএসইসি চেয়ারম্যান
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি কনফিডেন্ট যে আগামী এক বছরে এই স্টক মার্কেটটা আগের মতো আপনারা দেখবেন না। এই স্টক মার্কেটটা আরও অনেক ডিপার হবে, অনেক ভালো ভালো কোম্পানি আসবে। বর্তমান দুর্বলতা তখন অনেকটাই কমে আসবে।’

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য উত্থান-পতন নিয়ে স্বল্পমেয়াদি চিন্তা করলে চলবে না। জোয়ার-ভাটা থাকবে—এটি স্বাভাবিক। নিয়ন্ত্রক সংস্থার লক্ষ্য একটি ‘অর্ডারলি, ফেয়ার ও ট্রান্সপারেন্ট’ মার্কেট গড়ে তোলা।

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সুফল
চেয়ারম্যান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার দুদিনের মধ্যেই ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়েছিল, যার অন্যতম কারণ ছিল মরগান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান। ফ্লোর প্রাইসের কারণে সূচকটি বাংলাদেশকে স্থগিত করেছিল। এ ধরনের ‘মেকশিফট প্র্যাকটিস’ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। তিনি জানান, আগামী মাস থেকে এই সূচক আবার চালু হতে পারে।

বেক্সিমকোর জিডিআর চালু
বেক্সিমকোর জিডিআর ইস্যুতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জরুরি বোর্ড সভার অনুমোদনে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে স্থগিত থাকা জিডিআর পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। তা না হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি কোম্পানির জিডিআর ইস্যুতে সমস্যা তৈরি হতে পারত।

ডিএসইকে আরও ক্ষমতায়ন
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিদর্শন কার্যক্রম, সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণ ও তালিকাভুক্ত কোম্পানি পরিদর্শনে ডিএসইকে আরও ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিএসই ও বিএসইসির নজরদারি ব্যবস্থা আধুনিকায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগ
বর্তমানে প্রায় ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী খুচরা, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অপ্রতুলতা নির্দেশ করে। এ অবস্থা পরিবর্তনে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের বিনিয়োগ কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ট্রাস্ট আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা পরিবর্তন করে শেয়ারবাজার ও করপোরেট বন্ডে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ভালো কোম্পানি আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তি
পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানির সংখ্যা দ্রুত বাড়াতে সরাসরি তালিকাভুক্তি (ডাইরেক্ট লিস্টিং) বিধিমালা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। আইপিও প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইপিও ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনা হবে।

এক্সটেন্ডেড অডিট’ চালু
আইপিও প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ‘এক্সটেন্ডেড অডিট’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু আর্থিক বিবরণী যাচাই নয়—কোম্পানির জমি, যন্ত্রপাতি, মজুত পণ্য, পাওনা ও সরবরাহকারীর বাস্তবতা যাচাই করবে অডিটররা। এতে ডিএসইকে বারবার প্রশ্ন করতে হবে না এবং আইপিও প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত হবে।

হাইব্রিড ব্যবস্থা
আগামী সপ্তাহে ‘হাইব্রিড সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে কোম্পানি একদিকে মূলধন সংগ্রহ করবে, অন্যদিকে সরাসরি তালিকাভুক্ত হবে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনতে এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে মনে করছে বিএসইসি।

পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি’ সংজ্ঞা
সিকিউরিটিজ আইনের ২০-এ ধারা প্রয়োগ করে জনস্বার্থে কোনো কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত হতে বলা সম্ভব। এ জন্য ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি’র সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হবে। চেয়ারম্যান আশা করেন, আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বড় ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানিগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পুঁজিবাজারে আসবে।

কর সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ
তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারে সুবিধা রয়েছে এবং এ সুবিধা আরও বাড়ানোর বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির করহারে যৌক্তিক পার্থক্য তৈরি করা গেলে কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে উৎসাহিত হবে।

করপোরেট বন্ডে ৮০ শতাংশ ফি কমেছে
করপোরেট বন্ড মার্কেট এগিয়ে নিতে ডিএসইর মূল বোর্ডে তালিকাভুক্তি ফি ৮০ শতাংশ কমানো হয়েছে। ফলে আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে মূল বোর্ডে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করপোরেট বন্ড লেনদেন হতে পারে। বর্তমানে অনেক বন্ডে ১২ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত কুপন রেট পাওয়া যাচ্ছে।

ডেরিভেটিভ, ইটিএফ ও রিয়েল এস্টেট ট্রাস্ট
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে ডেরিভেটিভ মার্কেট চালুর প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। গোল্ড, সিলভার ও ক্রুড পাম অয়েল নিয়ে কাজ চলছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ইনডেক্স ফিউচার চালুর আবেদন করেছে। এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) ও রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (আরইআইটি) চালুতেও পরিবর্তন আনা হবে।

এক বছরের মধ্যে সিসিবিএল চালুর লক্ষ্য
ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নে সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এটি চালু হবে। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে।

ব্রোকারদের জন্য অভিন্ন সফটওয়্যার
বিভিন্ন ব্রোকারের নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবহারের ঝুঁকি এড়াতে সব ব্রোকারের জন্য একটি অভিন্ন সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সিসিবিএলের সঙ্গে এ সফটওয়্যারের এপিআই সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন মার্জিন, আইপিও ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা
মার্জিন বিধিমালা ইতিমধ্যে করা হয়েছে। ক্যাপিটাল ইস্যু বিধিমালার পর আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে নতুন আইপিও বিধিমালা আনা হবে। এরপর মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালায় পরিবর্তন আনা হবে।

বহুজাতিক কোম্পানির লভ্যাংশ পরিশোধ সহজ
দ্বৈত কর পরিহার সংক্রান্ত ছাড়পত্র না পাওয়ায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ বিদেশে পাঠাতে পারছিল না। এখন থেকে বারবার বিএসইসিতে আসতে হবে না। লভ্যাংশের পুরো অর্থ পাওয়ার পর এক মাসের মধ্যে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সহজ
‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারধারী স্পনসরদের শেয়ার হস্তান্তরের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে বিএসইসির পরিবর্তে ডিএসইকে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আর্থিক শিক্ষায় বড় উদ্যোগ
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য আর্থিক সাক্ষরতা কার্যক্রম কয়েক গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মাসভিত্তিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

সূচক ওঠানামা থামানো আমার কাজ নয়
পুঁজিবাজারের দৈনন্দিন ওঠানামা নিয়ে সমালোচনার জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, তার কাজ সূচক বাড়ানো বা কমানো নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সুশৃঙ্খল, ন্যায্য ও স্বচ্ছ বাজার তৈরি করা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা ও গালিগালাজ শুনলেও কাজ থামাননি তিনি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা করুন; আপনারা আমাদের ‘সাথী’। আপনার সহযোগিতা ছাড়া শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

Facebook Comments Box

Posted ১২:৩২ পিএম | শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com