নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | 12 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের মৌলভিত্তিসম্পন্ন ভালো কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ দিতে আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর অংশ হিসেবে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের খসড়া বিধিমালা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
খসড়া বিধিমালা নিয়ে মতবিনিময়:
বিএসইসি ইতোমধ্যে ‘Bangladesh Securities and Exchange Commission (Direct Listing of Securities by Stock Exchange) Rules, 2026’-এর খসড়া অনুমোদন ও জনমতের জন্য প্রকাশ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় অংশীজনদের মতামত, পর্যবেক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা জানতে এই সভার আয়োজন করা হয়।
উপস্থিত অংশীজনরা:
সভায় বিএসইসি কমিশনারবৃন্দ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। এছাড়া বিএপিএলসি ও বিএমবিএ-এর প্রেসিডেন্ট, বিভিন্ন তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানি, মার্চেন্ট ব্যাংক, ইস্যু ম্যানেজার, পেশাজীবী সংগঠন এবং শেয়ারবাজারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইউনিলিভার, মেটলাইফ, নেসলে বাংলাদেশ, বাংলালিংক, কাফকো, এমজিআই, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, ডিবিএল গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপ, ইউনিক গ্রুপ, কাজী ফার্মস গ্রুপ, কনফিডেন্স গ্রুপ, বিআরবি ক্যাবলস, এডিসন পাওয়ার, বোরাক রিয়েল এস্টেট, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস, সিলেট গ্যাস ফিল্ড, অনন্ত গ্রুপ, এসিআই পিএলসি, নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার, ওয়ালটন, আকিজ রিসোর্সেস, ইমপ্রেস-নিউটেক্স, ন্যাশনাল পলিমার, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন এবং সেভেন রিংস সিমেন্টের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
খসড়া বিধিমালায় যা আছে:
সভায় প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রস্তাবিত বিধিমালার আওতায় সরাসরি তালিকাভুক্তির যোগ্য কোম্পানি, আবেদন ও তালিকাভুক্তির শর্ত এবং প্রাইস ডিসকভারি প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়। অংশীজনরা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ও সক্ষম কোম্পানিকে বাজারে আনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও বাজারের শৃঙ্খলা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেন।
ভালো কোম্পানি না থাকায় গভীরতা বাড়ছে না: বিএসইসি চেয়ারম্যান
সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির সংখ্যা এখনো পর্যাপ্ত নয়। ভালো ও স্বনামধন্য ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানিগুলোকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে বাজারে সম্পৃক্ত করে বাজারের গভীরতা ও পরিধি বাড়াতে চায় কমিশন। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও সম্প্রসারণের পথও সুগম হবে।
তিনি তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে কোম্পানির সুনাম, গ্রহণযোগ্যতা ও করপোরেট ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি কর-সুবিধা, কোম্পানির মূল্য বৃদ্ধি, শেয়ারের তারল্য বৃদ্ধি এবং সাকসেসরদের শেয়ার লিকুইড করার সুযোগ তৈরি হয়। ভবিষ্যতে সম্প্রসারণে অতিরিক্ত পুঁজির জোগান পেতেও তালিকাভুক্তি সহায়ক হবে।
হাইব্রিড পদ্ধতিও বিবেচনায়:
বিএসইসি চেয়ারম্যান আরও জানান, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের পাশাপাশি আইপিও বিধিমালাকেও আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করতে কাজ করছে কমিশন। কোম্পানিগুলো একই সঙ্গে বিদ্যমান শেয়ার অফলোড এবং নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে—অর্থাৎ হাইব্রিড পদ্ধতিতে—বাজারে আসতে পারে, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা:
সভায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা কেউ ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ে, আবার কেউ হাইব্রিড পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁরা বিএসইসির উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সব মিলিয়ে, দেশের বড় ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে সম্পৃক্ত করে বাজারের গভীরতা, পরিধি ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের নতুন কাঠামো তৈরির দিকে এগোচ্ছে বিএসইসি।
Posted ৯:০৪ পিএম | বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.