ব্রেকিং >>
ব্রেকিং >>

আমানতকারীদের সুরক্ষায় সমস্যাগ্রস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কঠোর হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | 20 বার পঠিত | প্রিন্ট

আমানতকারীদের সুরক্ষায় সমস্যাগ্রস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কঠোর হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডে হাজার কোটি টাকার অনিয়ম এবং প্রশাসনিক বিপর্যয়ের অভিযোগের পর এবার পুরো ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতে নজরদারি জোরদার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বছরের পর বছর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করা, ভুয়া ও জামানতবিহীন ঋণ বিতরণ এবং আমানতকারীদের সঞ্চিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক সমস্যাগ্রস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পথে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা ফাইন্যান্সের মতো সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা অন্যান্য নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষায় ঘাটতি এবং অননুমোদিত লেনদেনের বিস্তার বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। নিরীক্ষা ও তদারকি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, খাতটির বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গত তিন থেকে চার বছর ধরে তাদের নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক হিসাব পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে কিংবা প্রকাশ করতে পারেনি। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের মূলধন ও সম্পদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে আমানতকারী এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Responsive Ad Banner

প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঋণগ্রহীতার যোগ্যতা ও জামানত যথাযথভাবে যাচাই না করেই প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে পরিচালনা পর্ষদের অসাধু চক্র কোটি কোটি টাকার বেনামি ঋণ অনুমোদন করেছে। এ ছাড়া পরিচালনা পর্ষদের অনুমতি ছাড়াই বিপুল পরিমাণ অর্থ অননুমোদিত হিসাবে স্থানান্তর এবং গ্রাহকদের অর্থ ব্যবহার করে শেয়ারবাজারসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ খাতে অবৈধ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে আর্থিক খাতের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ শ্রেণিকৃত ও অনাদায়ি খেলাপি ঋণের চাপে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অতিরিক্ত মূলধন ঘাটতি এবং পুনর্গঠনে ব্যর্থতার কারণে কয়েকটি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ‘অকার্যকর’ ও ‘নন-ভায়াবল’ হিসেবে ঘোষণা করে সেগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ অথবা দ্রুত অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আর্থিক বিবরণী তৈরিতে কারসাজি ও তা প্রকাশে বিলম্বের সঙ্গে জড়িত পরিচালনা পর্ষদ এবং শীর্ষ ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে ফৌজদারি মামলা করার পথও তৈরি হচ্ছে।

একই সঙ্গে সব ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বাধীন নিরীক্ষকের মাধ্যমে চার বছরের বকেয়া আর্থিক হিসাব কিংবা নতুন হিসাব নিরীক্ষা করাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন করে কোনো জামানতহীন বা শর্তহীন চলতি মূলধন ঋণ অনুমোদনের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের তদারকির ঘাটতি এবং পরিচালনা পর্ষদের স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি চক্র পুরো নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতের ভিত্তি দুর্বল করে দিয়েছে। উত্তরা ফাইন্যান্সের মতো প্রতিষ্ঠানের চরম বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কঠোর অবস্থান দেরিতে হলেও কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে পদক্ষেপগুলো নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তবেই সাধারণ আমানতকারীদের হারানো আস্থা কিছুটা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box

Posted ৯:৪৬ পিএম | শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com