ব্রেকিং >>
ব্রেকিং >>

আমানতের সুদ মূল্যস্ফীতির নিচে, সঞ্চয়কারীদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | 24 বার পঠিত | প্রিন্ট

আমানতের সুদ মূল্যস্ফীতির নিচে, সঞ্চয়কারীদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকে আমানত রেখে আগের মতো সুদ পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা। একই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সংসার পরিচালনার ব্যয় বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের সঞ্চয় কোথায় রাখলে অর্থের নিরাপত্তা বজায় থাকবে এবং তুলনামূলক ভালো মুনাফা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ব্যাংকের সুদ থেকে নিয়মিত আয় করে সংসার চালানো অবসরপ্রাপ্ত ও প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

ব্যাংক খাতের চলমান সংকটও আমানতকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পদ্মা ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ সংকটে পড়া কয়েকটি ব্যাংকে অর্থ জমা রেখে অনেক গ্রাহক দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের আমানত তুলতে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। সংকটাপন্ন কয়েকটি ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। এর সঙ্গে আমানতের সুদের হার কমে যাওয়ায় সঞ্চয়কারীদের আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

Responsive Ad Banner

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। বিপরীতে কয়েকটি শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকে এক বছর মেয়াদি স্থায়ী আমানতের সুদের হার কমে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফলে ব্যাংকে টাকা রেখে সুদ পাওয়া গেলেও মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় কম হওয়ায় সঞ্চয়ের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিষয়টি একটি উদাহরণের মাধ্যমে বোঝা যায়। কোনো ব্যক্তি এক বছরের জন্য ব্যাংকে ১০ লাখ টাকা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে জমা রাখলে বছর শেষে কর ও অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ কাটার আগে তাঁর সুদ আয় হবে ৭৫ হাজার টাকা। কিন্তু একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ হলে পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে তার চেয়ে বেশি হারে। ফলে ব্যাংক হিসাবে টাকার পরিমাণ বাড়লেও সেই অর্থ দিয়ে আগের তুলনায় কম পণ্য ও সেবা কেনা সম্ভব হতে পারে।

ব্যাংকারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে কয়েকটি ব্যাংকে এক বছর মেয়াদি আমানতের বিপরীতে ৯ থেকে ১০ দশমিক ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যেত। পরবর্তী সময়ে তা কমে ৮ থেকে ৯ শতাংশের আশপাশে নেমে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যাংকে সুদের হার আরও কমানো হয়েছে। বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংক ও ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকে এক বছর মেয়াদি স্থায়ী আমানতে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং সিটি ব্যাংকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, আমানতের সুদের হার কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আর্থিক চাপে পড়বেন। কারণ, তাঁদের অনেকেই ব্যাংকে রাখা অর্থের সুদ থেকে পাওয়া আয় দিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে সুদের আয় কমে গেলে তাঁদের আর্থিক সংকট আরও বাড়তে পারে।

বেশি সুদ নাকি নির্ভরযোগ্য ব্যাংক, কোনটি বেছে নেবেন?

সঞ্চয়কারীদের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যে ব্যাংকে বেশি সুদ পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অর্থ রাখা ভালো, নাকি তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য ব্যাংকে কিছুটা কম সুদে আমানত রাখা উচিত।

বিশেষজ্ঞ বিবেচনায়, শুধু বেশি সুদের প্রস্তাব দেখে ব্যাংক নির্বাচন করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কোনো ব্যাংক অন্য ব্যাংকগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি সুদ দিলে কেন তারা বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, তারল্য, মূলধনের পর্যাপ্ততা, খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি এবং আমানত ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা জরুরি।

ব্যাংক খাতে আস্থার সংকটের মধ্যে অনেক গ্রাহক দুর্বল ব্যাংক থেকে অর্থ সরিয়ে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য ব্যাংকে জমা রাখছেন। ব্যাংকারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ব্যাংক খাতে গড় আমানত প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এ সময়ে কয়েকটি শীর্ষ ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ১৫ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত।

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন জানিয়েছেন, তাঁদের ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের অনুপাত প্রায় ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণের পরিমাণ কম থাকায় ব্যাংকটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উদ্বৃত্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতে মোট তারল্যের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৮১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। একই সময়ে বিধিবদ্ধ ন্যূনতম তারল্য সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা।

এত বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতে থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করতে পারছে না। ব্যাংকারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। নতুন বিনিয়োগে ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ঋণের উচ্চ সুদহার এর অন্যতম কারণ। এ পরিস্থিতিতে আমানতের সুদ কমিয়ে তহবিল সংগ্রহের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে ব্যাংকগুলো।

ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র, ট্রেজারি বিল নাকি শেয়ারবাজার

সঞ্চয়ের অর্থ কোথায় রাখা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্ভর করে ব্যক্তির আর্থিক প্রয়োজন, বিনিয়োগের মেয়াদ, নিয়মিত আয়ের চাহিদা এবং ঝুঁকি গ্রহণের সক্ষমতার ওপর। সবার জন্য একই বিনিয়োগমাধ্যম উপযুক্ত নয়। ব্যাংকের আমানতের পাশাপাশি সঞ্চয়পত্র, সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড এবং শেয়ারবাজারের মতো বিকল্পগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে প্রতিটি মাধ্যমেরই নিজস্ব নিয়ম, শর্ত ও ঝুঁকি রয়েছে।

সঞ্চয়পত্র: নির্ধারিত যোগ্যতা, বিনিয়োগসীমা ও প্রযোজ্য নিয়ম মেনে সঞ্চয়পত্রে অর্থ বিনিয়োগ করা যেতে পারে। তবে কেনার আগে সংশ্লিষ্ট সঞ্চয়পত্রের বর্তমান মুনাফার হার, মেয়াদ, কর এবং মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙানোর শর্ত জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ও শর্ত এক নয়।

মেয়াদি আমানত: ব্যাংকে টাকা রাখার ক্ষেত্রে শুধু সুদের হার বিবেচনা করলেই হবে না, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ও আমানত ফেরত দেওয়ার সক্ষমতাও যাচাই করতে হবে। পুরো অর্থ একই মেয়াদে জমা না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে ভাগ করে রাখা যেতে পারে। এতে জরুরি প্রয়োজনে অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শর্তের ওপর।

স্বল্পমেয়াদি আমানত ও সহজে ব্যবহারযোগ্য অর্থ: যাঁদের যেকোনো সময় অর্থের প্রয়োজন হতে পারে, তাঁদের পুরো সঞ্চয় দীর্ঘমেয়াদি আমানতে আটকে রাখা উচিত নয়। দৈনন্দিন ব্যয় ও জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ এমন ব্যবস্থায় রাখা দরকার, যেখান থেকে সহজে টাকা তোলা যায়। অন্যদিকে, ঘরে নগদ অর্থ রাখলে চুরি বা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির কারণে নগদ অর্থের ক্রয়ক্ষমতাও কমতে পারে।

সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড: প্রয়োজনীয় আর্থিক জ্ঞান ও বিনিয়োগের সুযোগ থাকলে সরকারি ট্রেজারি বিল কিংবা বন্ডের বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে এর মেয়াদ, কেনার পদ্ধতি, সুদ বা মুনাফা পাওয়ার ধরন এবং মেয়াদপূর্তির আগে বিক্রির শর্ত বুঝে নেওয়া জরুরি। এসব বিনিয়োগে ব্যাংকের সাধারণ আমানতের মতো একই ধরনের সুবিধা পাওয়া যায় না।

শেয়ারবাজার: শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদে মুনাফা অর্জনের সুযোগ থাকলেও এখানে লোকসানের ঝুঁকিও রয়েছে। বাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান, ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া শুধু ব্যাংকের সুদ কমে যাওয়ার কারণে সঞ্চয়ের অর্থ শেয়ারবাজারে সরিয়ে নেওয়া ঠিক হবে না। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে কিংবা সংসারের নিয়মিত ব্যয় মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে রাখার আগে সতর্কভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী মনে করেন, আমানতকারীরা চাইলে সঞ্চয়পত্র কিংবা শেয়ারবাজারের মতো বিকল্প বিনিয়োগমাধ্যম বিবেচনা করতে পারেন। তবে শেয়ারবাজারে সম্ভাব্য মুনাফার পাশাপাশি লোকসানের ঝুঁকিও রয়েছে।

বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক প্রয়োজন বুঝুন

সঞ্চয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আর্থিক চাহিদা ও ভবিষ্যৎ ব্যয়ের পরিকল্পনা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা, বাড়িভাড়া কিংবা অন্য কোনো বড় ব্যয়ের প্রয়োজন থাকলে সহজে উত্তোলনযোগ্য অর্থের গুরুত্ব বেশি। অন্যদিকে, যাঁদের নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা রয়েছে এবং দীর্ঘদিন অর্থ উত্তোলন না করলেও চলে, তাঁরা মেয়াদি বিনিয়োগের বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, জরুরি প্রয়োজন মেটানোর অর্থ আলাদা রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, বেশি সুদের আশায় একটি ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানে সব সঞ্চয় জমা রাখা উচিত নয়। তৃতীয়ত, বিনিয়োগের আগে মেয়াদ, কর, চার্জ, আগাম অর্থ উত্তোলনের শর্ত এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে হবে। চতুর্থত, কোনো বিনিয়োগের মুনাফার হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি হলেই সেটিকে ঝুঁকিমুক্ত মনে করা যাবে না।

বিশেষ করে ব্যাংক খাতের সংকটের কারণে যেসব আমানতকারী নিজেদের অর্থ তুলতে পারেননি, তাঁদের কাছে সঞ্চয়ের নিরাপত্তা এখন শুধু মুনাফার প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে আর্থিক নিশ্চয়তা ও মানসিক স্বস্তির বিষয়টিও জড়িত।

নীতি সুদহার কমলেও ঋণের চাহিদা দুর্বল

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। তবে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা দুর্বল থাকায় ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য রয়ে গেছে।

ব্যাংকগুলোর যুক্তি হলো, আমানতের সুদ কমলে তহবিল সংগ্রহের ব্যয় কমবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ঋণের সুদহার কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আমানতের সুদ কমানো হলেই ঋণের সুদ একই হারে কমবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ঋণের চাহিদা বাড়লে ব্যাংকের উদ্বৃত্ত অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে ব্যাংকের আয় বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতেও গতি ফিরতে পারে।

সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে সঞ্চয়কারীদের সামনে তিনটি বিষয় সমন্বয় করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে—অর্থের নিরাপত্তা, প্রয়োজনে দ্রুত অর্থ ব্যবহারের সুযোগ এবং মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার ক্ষতি যতটা সম্ভব সীমিত রাখা। তাই শুধু বেশি সুদের প্রস্তাবের দিকে না তাকিয়ে নিজের আর্থিক প্রয়োজন, বিনিয়োগের মেয়াদ ও ঝুঁকি গ্রহণের সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

কারণ, ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ বাড়লেই তার প্রকৃত মূল্য বাড়ে না। সেই অর্থ কতটা নিরাপদ থাকছে এবং ভবিষ্যতে তা দিয়ে কতটা পণ্য ও সেবা কেনা যাবে, সেটিই সঞ্চয়ের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

Facebook Comments Box

Posted ৯:২০ পিএম | শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com