ব্রোকারেজ হাউজের আর্থিক অনিয়ম অনুসন্ধানে বিএসইসির তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | 17 বার পঠিত | প্রিন্ট

ব্রোকারেজ হাউজের আর্থিক অনিয়ম অনুসন্ধানে বিএসইসির তদন্ত কমিটি
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান তাসিয়া সিকিউরিটিজ লিমিটেডের নিট সম্পদে ঘাটতির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, ঘাটতির সঙ্গে গ্রাহকদের অর্থ ও সিকিউরিটিজের কোনো সম্পর্ক আছে কি না এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো অনিয়ম কিংবা অসংগতি জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন। সম্প্রতি এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাসিয়া সিকিউরিটিজের কার্যক্রম যাচাইয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কমিশন। কমিটিকে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএসইসির উপপরিচালক মো. এমদাদুল হক, সহকারী পরিচালক মো. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের উপব্যবস্থাপক মো. আল আমিন। এ বিষয়ে জারি করা আদেশ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

Responsive Ad Banner

বিএসইসির আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, শেয়ারবাজারের সার্বিক স্বার্থ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাসিয়া সিকিউরিটিজের নিট সম্পদ ঘাটতি ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্ত করা প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ধারা ২১, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ১৭ক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) বিধিমালা, ২০২০-এর বিধি ৭(৪) অনুসারে কমিশনের ওপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রচলিত বিধান অনুসারে, একটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদের পরিমাণ তার পরিশোধিত মূলধনের ৭৫ শতাংশের বেশি হতে হবে। এ শর্তের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার সামর্থ্য সরাসরি সম্পর্কিত। কোনো ব্রোকারেজ হাউজ নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) বিধিমালা, ২০২০-এর বিধি ৭(২) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ট্রেক সার্টিফিকেট বাতিল করার বিধান রয়েছে।

তদন্তের স্বার্থে তাসিয়া সিকিউরিটিজের কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও আর্থিক তথ্য চেয়েছে বিএসইসি। সম্প্রতি পাঠানো চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স সনদ এবং ট্রেক, স্টক-ব্রোকার, স্টক-ডিলার ও ডিপি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অনুলিপি জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গত তিন বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীও চাওয়া হয়েছে। এসব নথি বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন, সম্পদ ও দায়ের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাই করবে তদন্ত কমিটি।

এ ছাড়া ডিলার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর বিস্তারিত বিবরণ চেয়েছে কমিশন। এ ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ৩১ নভেম্বর ও ২০২৬ সালের ৩১ জুলাইয়ের পোর্টফোলিও বিবরণী জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গত তিন বছরের তুলনামূলক আর্থিক অবস্থার বিবরণী এবং লাভ-ক্ষতি ও অন্যান্য সামগ্রিক আয়ের হিসাবও চাওয়া হয়েছে। তাসিয়া সিকিউরিটিজের করপোরেট পরিচালনা কাঠামোও তদন্তের আওতায় থাকবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানের মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন, আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন এবং পরিচালনা পর্ষদের সভার কার্যবিবরণীর অনুলিপি দিতে নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

গ্রাহকদের অর্থ ও শেয়ার ধারণের হিসাব যাচাইয়ের বিষয়টিকেও তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের ৩১ জুলাইয়ের কনসোলিডেটেড কাস্টমারস অ্যাকাউন্টের (সিসিএ) অবস্থা সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের ২০ আগস্টের গ্রাহকভিত্তিক শেয়ার ধারণের বিবরণ ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার থেকে এক্সেল ও পিডিএফ ফরম্যাটে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সিসিএ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ ও সিকিউরিটিজ ব্যবস্থাপনায় কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। কারণ, ব্রোকারেজ হাউজগুলো গ্রাহকদের অর্থ ও শেয়ার সংরক্ষণ এবং পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। ফলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থ ও সম্পদের হিসাবের সঙ্গে গ্রাহকদের অর্থ ও সিকিউরিটিজের হিসাব যথাযথভাবে পৃথক রাখা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখবে কমিশন।

সামগ্রিকভাবে এ অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাসিয়া সিকিউরিটিজের নিট সম্পদ ঘাটতির প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি গ্রাহকদের হিসাব, অর্থ ও শেয়ার ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা অসংগতি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করবে বিএসইসি।

Facebook Comments Box

Posted ১:৫৮ পিএম | শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

sharebazar24 |

মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com