নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | 21 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: পেশাগত অসদাচরণ ও দাপ্তরিক গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সহকারী পরিচালক মো. ইব্রাহিম আলীর এক বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সই করা গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইব্রাহিম আলীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে আগের পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে এক বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার প্রশাসনিক শাস্তি আরোপ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৬ সালের ৪ মার্চ। নভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির পরিচালনা পর্ষদসংক্রান্ত একটি অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় কোম্পানিটির স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে অনুমোদনহীন একটি চিঠি ইস্যু করেন ইব্রাহিম আলী।
বিএসইসির তদন্তে উঠে আসে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই তিনি ওই চিঠি জারি করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, একই দিন বিকেলে ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের কাছাকাছি দাপ্তরিক প্রাঙ্গণের বাইরে নভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি সচিব মো. আমিনুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে গোপনে সাক্ষাৎ করেন তিনি। ওই সাক্ষাতের সময় দাপ্তরিক নিয়মনীতি ও গোপনীয়তার বিধান অমান্য করে অনুমোদনহীন চিঠিটি তাঁর হাতে তুলে দেন এবং তাঁকে চিঠিটির ছবি তোলার সুযোগ করে দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পরদিন বিএসইসি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইব্রাহিম আলী প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং অসত্য তথ্য দেন।
এসব গুরুতর অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে বিএসইসি। কমিশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কামরুল আনাম খানের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে জানায়, ইব্রাহিম আলীর কর্মকাণ্ড ‘বিএসইসি কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০২১’ এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর আওতায় গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর শাস্তি দেওয়ার বিধান থাকলেও গত ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় তাঁর বিষয়ে তুলনামূলক নমনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএসইসি জানিয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা লিখিতভাবে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন, নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোরতর শাস্তি আরোপ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক বছরের জন্য তাঁর বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি সাময়িক বরখাস্ত থাকার সময়টিকে পূর্ণ বেতন ও ভাতাসহ সক্রিয় চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হবে।
এদিকে, শেয়ারবাজারে পরিচালকদের বিনিয়োগসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের নতুন ব্যবস্থার পাশাপাশি সেসব তথ্যের যথার্থতা যাচাই ও লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, পরিচালকদের দেওয়া তথ্য যাচাই এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত লেনদেন নিরীক্ষার মাধ্যমে নিয়মের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে কমিশনকে।
এ বিষয়ে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, কোম্পানির মূল্যসংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের আগেই পরিচালকেরা সেই তথ্যের ভিত্তিতে শেয়ার লেনদেন করলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। ফলে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাজারে ন্যায্যতা ও সমতা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
Posted ১:২১ এএম | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.