ব্রেকিং >>
ব্রেকিং >>

আস্থা সংকটে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত, বন্ধের পথে পাঁচ কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬ | 5 বার পঠিত | প্রিন্ট

আস্থা সংকটে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত, বন্ধের পথে পাঁচ কোম্পানি
Responsive Ad Banner

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:  দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, অর্থ পাচার ও গ্রাহকদের জমানো টাকা ফেরত দিতে না পারার নেতিবাচক প্রভাবে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতের আকার দিন দিন কমছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এখন আমানতের বিপরীতে ১০ শতাংশের বেশি সুদ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েও নতুন গ্রাহক আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে আমানত সংগ্রহ এবং ঋণ বিতরণ—উভয় ক্ষেত্রেই স্থবিরতা নেমে এসেছে। ইতিমধ্যে, পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Responsive Ad Banner

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পথে সেগুলো হলো—পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে সেখানে প্রশাসক নিয়োগের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বন্ধ হয়ে যাওয়া এই প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান আমানত বীমা ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পেয়ে থাকেন। নতুন এই সুবিধা কারা পাবেন, তা নির্ধারণের জন্য পৃথক নীতিমালা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিলুপ্ত হতে যাওয়া পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ৩০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ের আমানত রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩ কোটি টাকা। এছাড়াও, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এদের দায় রয়েছে ২ হাজার ২০২ কোটি টাকা।

অবশ্য সংকট কেবল এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আরও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সময় দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে তাদের কার্যক্রমে উন্নতি না ঘটলে সেগুলোকেও একীভূত বা বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা, যা তিন মাস আগে ছিল ৫১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। উচ্চ সুদের প্রলোভন সত্ত্বেও এই সামান্য আমানত বৃদ্ধি মূলত পূর্ববর্তী সুদ জমা হওয়ার ফলেই সম্ভব হয়েছে; নতুন করে আমানত প্রবাহ খুবই কম। একই সময়ে ঋণ বিতরণও হ্রাস পেয়েছে। মার্চ শেষে মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বর শেষে ছিল ৭৮ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। নতুন ঋণ বিতরণ কমে যাওয়ায় আদায়কৃত অর্থের বড় অংশই পরিচালন ব্যয় মেটাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানেই অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ঋণ বের করে নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই আমানতকারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা নিজেদের টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধনসহ নানা আন্দোলন করে আসছেন।

Facebook Comments Box

Posted ৫:০৭ পিএম | বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com