নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ | 25 বার পঠিত | প্রিন্ট
বিশেষ প্রতিবেদন:* দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান যমুনা ব্যাংক পিএলসি ২০২৫ সালে মূলধন, সম্পদ, আমানত, বিনিয়োগ ও শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটিসহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যাংকটি তার আর্থিক ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণ, ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে।
## মোট সম্পদে ৬,২২১ কোটি টাকার বেশি প্রবৃদ্ধি
২০২৫ সালের শেষে যমুনা ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২,৮৬৯.৮৩ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির মোট সম্পদ ছিল ৩৬,৬৪৮.৭৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৬,২২১.০৬ কোটি টাকা।
মোট সম্পদের এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ব্যাংকটির পরিচালন সক্ষমতা, আয় সৃষ্টির ভিত্তি এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করেছে। একই সঙ্গে এটি ব্যাংকের আর্থিক কার্যক্রমের ধারাবাহিক সম্প্রসারণেরও প্রতিফলন।
## আমানতে প্রতিফলিত গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান আস্থা
২০২৫ সালে ব্যাংকটির মোট আমানত ও অন্যান্য হিসাব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬,০৩১.৫৪ কোটি টাকা। আগের বছর এর পরিমাণ ছিল ৩১,০৪০.৬১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আমানত বেড়েছে প্রায় ৪,৯৯০.৯৩ কোটি টাকা।
আমানতের এই প্রবৃদ্ধি যমুনা ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি, কার্যকর তহবিল সংগ্রহ এবং বিস্তৃত গ্রাহকভিত্তির সুস্পষ্ট প্রতিফলন। এটি ব্যাংকের ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
## পরিকল্পিত বিনিয়োগে শক্তিশালী সম্প্রসারণ
২০২৫ সালে যমুনা ব্যাংকের মোট বিনিয়োগ বেড়ে ২০,২২৮.৯৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১৯,৪০২.১৮ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ ছিল ৮২৬.৭৬ কোটি টাকা।
নিরাপদ, ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ কৌশল অনুসরণের মাধ্যমে ব্যাংকটি আয় সৃষ্টির পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্থিতিশীলতাকে আরও সুসংহত করেছে।
## শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডারদের মোট ইক্যুইটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৫৭৬.৪৩ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে এর পরিমাণ ছিল ২,১৭০.৯৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি বেড়েছে প্রায় ৪০৫.৪৮ কোটি টাকা।
পাশাপাশি ব্যাংকটির রিটেইনড আর্নিংস বেড়ে ৪৪৬.৯১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করা, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
## প্রতি শেয়ারের সম্পদমূল্য বৃদ্ধি
ব্যাংকটির প্রতি শেয়ারের নেট অ্যাসেট ভ্যালু বা এনএভি ২০২৪ সালের ২৪.৬১ টাকা থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৭.৪৩ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
প্রতি শেয়ারের সম্পদমূল্য বৃদ্ধি ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা এবং শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদমূল্যের ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত বহন করে।
## তারল্য ব্যবস্থাপনায় শক্তিশালী অবস্থান
২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ১,৯৯৪.২৫ কোটি টাকা। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এজেন্ট ব্যাংকগুলোতে সংরক্ষিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,৫৭০.১৭ কোটি টাকা।
নগদ অর্থ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যাংকটির তারল্য ব্যবস্থাপনা, দৈনন্দিন আর্থিক দায় পরিশোধ এবং আকস্মিক ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
## আরও সুদৃঢ় হয়েছে মূলধন ভিত্তি
পরিশোধিত মূলধন ও শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি বৃদ্ধির ফলে ২০২৫ সালে যমুনা ব্যাংকের মূলধন ভিত্তি আগের বছরের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততার অবস্থান নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে।
শক্তিশালী মূলধন ভিত্তি ব্যাংকটিকে সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলা, নতুন বিনিয়োগ গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণে অধিক সক্ষমতা প্রদান করেছে।
## প্রযুক্তি, পণ্য ও গ্রাহকসেবায় ধারাবাহিক উন্নয়ন
আর্থিক সূচকের অগ্রগতির পাশাপাশি যমুনা ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু, নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
এছাড়া উদ্যোক্তা উন্নয়ন, এসএমই অর্থায়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যাংকটি ব্যবসায়িক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
## ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য দৃঢ় অবস্থান
সার্বিকভাবে ২০২৫ সালে যমুনা ব্যাংক পিএলসি মূলধন, সম্পদ, আমানত, বিনিয়োগ এবং শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটিসহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচকে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিফলিত এই অগ্রগতি প্রমাণ করে যে, ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি আগের বছরের তুলনায় আরও সুদৃঢ় হয়েছে। শক্তিশালী মূলধন, ক্রমবর্ধমান আমানত, পরিকল্পিত বিনিয়োগ এবং কার্যকর তারল্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যমুনা ব্যাংক ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য একটি দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে।
Posted ৭:০৯ পিএম | বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.