বুধবার ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আর্থিক স্বচ্ছতা ও গোয়িং কনসার্ন নিয়ে প্রশ্ন ইন্দো-বাংলা ফার্মার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | 98 বার পঠিত | প্রিন্ট

আর্থিক স্বচ্ছতা ও গোয়িং কনসার্ন নিয়ে প্রশ্ন ইন্দো-বাংলা ফার্মার
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ‘ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড’-এর ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে বিভিন্ন গুরুতর অনিয়ম ও আপত্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন কোম্পানির নিরীক্ষক। তিনি প্রতিবেদনে কোম্পানির আর্থিক স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম বা ‘গোয়িং কনসার্ন’ নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানির ‘ক্যাপিটাল ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস’-এর ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি মূল্যের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা দলিল নেই। একইভাবে, ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকার মজুত পণ্যের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ‘Calfresh – M Tablet’ পণ্যের ৩৭ হাজার ৫০ ইউনিট মজুত রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া উৎপাদনাধীন পণ্যের হিসাব এক্সেল শিটে রাখা হয়েছে এবং কাঁচামাল ও ফিনিশড গুডসের সঠিক ব্যয় নির্ধারণের তথ্যও অডিটরের কাছে প্রদান করা হয়নি।

Responsive Ad Banner

আর্থিক লেনদেনেও বড় ধরনের অমিল ধরা পড়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির মোট বিক্রয় দেখানো হয়েছে ২১ কোটি ১৮ লাখ টাকা, তবে ব্যাংক হিসাবে জমা পড়েছে মাত্র ১৫ কোটি ১১ লাখ টাকা। ৬ কোটি টাকার বেশি ব্যবধানের কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা কোম্পানি দিতে পারেনি। এছাড়া ৪৩ লাখ টাকার বেশি ‘ক্যাশ অ্যান্ড ক্যাশ ইক্যুইভ্যালেন্ট’-এর বিপরীতে কোনো ব্যাংক বই বা রেজিস্টার যাচাইয়ের জন্য দেওয়া হয়নি।

নিরীক্ষক আরও উল্লেখ করেছেন, করপোরেট সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও গুরুতর দুর্বলতা রয়েছে। গত দুই অর্থবছরে (২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫) কোম্পানিটি যথাক্রমে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ এবং ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা লোকসান করেছে। এছাড়া বিএসইসি নির্দেশ অনুযায়ী তিন বছরের বেশি সময় পার হলেও অদাবিকৃত ডিভিডেন্ড নির্দিষ্ট ফান্ডে স্থানান্তর করা হয়নি।

ড. আশরাফুল হক এফসিএ প্রতিবেদনে স্পষ্ট করেছেন, দুর্বল অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, তথ্যের অপর্যাপ্ততা এবং পর্যাপ্ত তারল্য না থাকায় কোম্পানিটি ভবিষ্যতে ব্যবসা চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। মূলত হিসাব সংরক্ষণে পেশাদারিত্বের অভাব এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা ও আইএএস-২ এর সঠিক পরিপালনের অভাবে এই আর্থিক প্রতিবেদন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ৫:৫৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

sharebazar24 |

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com