বুধবার ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিএমএসএফ-এর আইনি ভিত্তি জোরদারে সরকারের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫ | 244 বার পঠিত | প্রিন্ট

সিএমএসএফ-এর আইনি ভিত্তি জোরদারে সরকারের উদ্যোগ
Responsive Ad Banner

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ড বিতরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘ডিভিডেন্ড হাব’ হিসেবে শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল (সিএমএসএফ) গড়ে তুলতে যাচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্যে সিএমএসএফ-এর আইনি কাঠামো জোরদার এবং কার্যপরিধি সম্প্রসারণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ ডিভিডেন্ড সরাসরি সিএমএসএফ-এ জমা হবে এবং সেখান থেকেই বিনিয়োগকারীদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় সিএমএসএফ প্রয়োজনীয় কর কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা দেবে, ফলে বিনিয়োগকারীদের আলাদাভাবে কর প্রত্যয়ন সংগ্রহের ঝামেলা থাকবেনা। বর্তমানে কর ফাঁকির ঝুঁকি, কর প্রত্যয়নের অনুপস্থিতি ও জটিলতা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Responsive Ad Banner

২০২১ সালের জুনে প্রতিষ্ঠিত সিএমএসএফ এর মূল লক্ষ্য ছিল অবণ্টিত ডিভিডেন্ড ব্যবস্থাপনা ও শেয়ারবাজারে তারল্য জোগান। এ পর্যন্ত প্রায় ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা নগদ ও ৩০৫ কোটি টাকার শেয়ার ডিভিডেন্ড বিতরণ করেছে তহবিলটি।

তবে সিএমএসএফ-এর কার্যক্রম নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২১-২২ অর্থবছরে সম্মানী ও অনুষ্ঠান বাবদ ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছিল, যেখানে মোট পরিচালন ব্যয় ছিল ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিএমএসএফ মূল উদ্দেশ্য হারিয়ে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের হাতিয়ার হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, “নজিবুর রহমানকে পুনর্বাসনের জন্য এই ফান্ড তৈরি হয়েছিল, যা শেয়ারবাজারের জন্য ক্ষতিকর ছিল।”

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবণ্টিত ডিভিডেন্ড প্রেরণের জন্য মধুমতি ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব খোলার উদ্যোগও ব্যর্থ হয়, কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক সিএমএসএফ-এর আইনি ভিত্তিকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করে অনুমোদন দেয়নি। এরপরই অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বৈঠকে সিএমএসএফ-কে ‘স্ট্যাটুটরি ফান্ড’ হিসেবে রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়, যাতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্মতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সিএমএসএফ অতীতে আইসিবি’র মাধ্যমে কিছু ইকুইটিতে বিনিয়োগ করে এবং ‘সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড’-এর উদ্যোক্তা হিসেবেও কাজ করেছে, যা বাজারে সমালোচিত হয়। তবে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের অর্থ দিয়ে আর কোনো বিনিয়োগ বা স্পনসরশিপ করা হবে না।

বর্তমানে পৃথক কোম্পানির মাধ্যমে ডিভিডেন্ড বিতরণ ও কর প্রত্যয়নের যে জটিলতা রয়েছে, সেটি ‘ডিভিডেন্ড হাব’ চালু হলে সমাধান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে একক চালানের মাধ্যমে কর ছাড় সুবিধা পাওয়া যাবে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য হবে সময়সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ।

Facebook Comments Box

Posted ১২:০৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

sharebazar24 |

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com