ডিএসইতে একযোগে একাধিক কর্মকর্তা অব্যাহতি, অনিশ্চয়তায় কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ | 20 বার পঠিত | প্রিন্ট

ডিএসইতে একযোগে একাধিক কর্মকর্তা অব্যাহতি, অনিশ্চয়তায় কর্মীরা
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একদিনে চারজন উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম)-সহ মোট আটজন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। হুট করে এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাঁটাইকৃত কর্মকর্তারা। অন্যদিকে ডিএসই কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়, বরং প্রতিষ্ঠানকে দক্ষ ও কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি রিসোর্স অপটিমাইজেশন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা
ডিএসইর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা হলেন: মো. আব্দুল লতিফ — জেনারেল অ্যাডমিন বিভাগের ডিজিএম, হোসনে আরা পারভীন — জেনারেল অ্যাডমিন বিভাগের ডিজিএম, শাহিন সারওয়ার — আইসিটি বিভাগের ডিজিএম এবং আব্দুর রাজ্জক — ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ডের সমন্বয়ক ও ডিজিএম।

Responsive Ad Banner

পাশাপাশি আরও দুজন সিনিয়র ম্যানেজার এবং নীচের পদে আরও দুজন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ডিএসইর কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

ছাঁটাইয়ের পদ্ধতি ও ক্ষতিপূরণ
চাকরিচ্যুত এক ডিজিএমকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিএসইর জনবল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তাকে তাৎক্ষণিক চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় তার পদটি আর প্রয়োজন নেই।

চাকরি অবসানের পর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে তিনি ১২০ দিনের সমপরিমাণ মোট বেতন নোটিশের পরিবর্তে পাবেন। এছাড়া: চলতি মাসের বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রাপ্য অর্থ, গ্র্যাচুইটি সুবিধা, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ ও ডব্লিউডব্লিউএফ) থেকে প্রাপ্য অর্থ, অব্যবহৃত বার্ষিক ছুটির নগদায়ন এবং ডিএসইর নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য পাওনা।

পাশাপাশি সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে অতিরিক্ত দুই মাসের সমপরিমাণ মোট বেতন দেওয়া হবে। তবে এই অর্থ সম্পূর্ণভাবে ডিএসইর বিবেচনাধীন সুবিধা এবং এটি ভবিষ্যতে কোনো আইনি অধিকার বা নজির সৃষ্টি করবে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছাঁটাইকৃত কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া
চাকরিচ্যুত হওয়া মো. আব্দুল লতিফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাকে চাকরিচ্যুত করার বিষয়ে চিঠিতে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তারা তাদের পছন্দ মতো ম্যানেজমেন্টের লোকজন দিয়ে সাজাতে চায়। যারা তাদের কথা মতো চলবে তাদের শুধু রাখবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ২১ বছর ধরে ডিএসইতে চাকরি করছি। আমি যখন জয়েন করি, তখন ছিলাম সেকেন্ড পজিশনে। এতদিন সার্ভিস দেওয়ার পর যদি এই ফিডব্যাক পাই, তাহলে তো কিছু বলার নেই।’

হোসনে আরা পারভীন বলেন, ‘আমাদের চাকরির বিধি অনুযায়ী ৬৫ বছর পর্যন্ত চাকরি করতে পারবো। এভাবে চাকরিচ্যুত করার কোনো নিয়ম নেই। কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়েই হুট করে চিঠি ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৩২ বছর ধরে আমি ডিএসইতে চাকরি করছি। আশ্চর্যের বিষয়, চিঠি দেওয়ার আগেই আমার কম্পিউটারসহ সবকিছু নিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক ডিজিএম বলেন, ‘ডিএসইতে প্রায় ৩২ বছর চাকরি করছি। আগে কখনো এভাবে কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়নি। হুট করে ডেকে নিয়ে গিয়ে চিঠি ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, চিঠিতে উল্লিখিত ‘পদ আর নেই’—এটি আসলে কোনো কারণ নয়, বরং তাদের পছন্দের লোক রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত।

ডিএসই চেয়ারম্যানের ব্যাখ্যা
যোগাযোগ করা হলে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম  বলেন, ‘চাকরিচ্যুত করার বিষয়টি কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়। বরং ডিএসইকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি রিসোর্স অপটিমাইজেশন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ডিএসইকে আরও দক্ষ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে আমরা দীর্ঘদিনের জনবল কাঠামো পর্যালোচনা করেছি। বিভিন্ন পর্যায়ে মূল্যায়নের পর বোর্ড সামগ্রিক নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি আইন, বিধিবিধান এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে।’

যেসব পদ বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নয় বলে বিবেচিত হয়েছে, সেসব পদেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তির কর্মদক্ষতা বা ব্যক্তিগত কারণে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ।

কতজন কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট সংখ্যাটি ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি এইচআর কমিটি দেখভাল করেছে। বোর্ড কেবল সামগ্রিক নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।’

ভবিষ্যতে এসব পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘রিসোর্স অপটিমাইজেশনের অংশ হিসেবে যেসব পদ অপ্রয়োজনীয় বিবেচিত হয়েছে, সেগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে। পদগুলোর প্রয়োজন থাকলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো না। তাই আগামীতে এসব পদে নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা নেই।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিএসইর এই পদক্ষেপ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের অংশ হলেও ছাঁটাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হঠাৎ করে দীর্ঘদিনের কর্মীদের এভাবে বিদায় দেওয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্কৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

Facebook Comments Box

Posted ৯:৪৩ পিএম | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

sharebazar24 |

মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com