বুধবার ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগে সতর্কতা: পাঁচ কোম্পানির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ | 49 বার পঠিত | প্রিন্ট

বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগে সতর্কতা: পাঁচ কোম্পানির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ খাতের একাধিক কোম্পানি বর্তমানে গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে। সরকারি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, নতুন চুক্তি নবায়নে অনিশ্চয়তা, উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকা এবং সম্পদের অতিমূল্যায়নের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

সর্বশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত ১১টি বিদ্যুৎ কোম্পানির মধ্যে অন্তত পাঁচটির ক্ষেত্রে ‘গোয়িং কনসার্ন’ বা ব্যবসা চালু রাখার সক্ষমতা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) জানিয়েছে, বিদ্যুৎ খাতের এই আর্থিক অনিশ্চয়তা বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে দুর্বল করছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে ঝুঁকি সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে প্রকাশ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সরকারি চুক্তি ছাড়া বিদ্যুৎ খাতে টেকসই বিনিয়োগ কার্যত অসম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আল-আমিন এবং সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, ফার্নেস অয়েলনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ব্যয় অত্যন্ত বেশি। এর সঙ্গে জ্বালানি সংকট যুক্ত হওয়ায় পিপিএ মেয়াদ শেষ হওয়া কেন্দ্রগুলো চালু রাখা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে, যা কোম্পানিগুলোকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে।

আর্থিক অনিয়ম ও দুর্বল হিসাব ব্যবস্থাপনার দিক থেকে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈদেশিক ঋণের বিপরীতে ৪ হাজার ৭১৫ কোটি টাকার বিনিময়জনিত ক্ষতি মূলধনে যুক্ত করা হয়েছে এবং ২৭ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকার সম্পদের যথাযথ নিরীক্ষা না করায় প্রকৃত আর্থিক চিত্র স্পষ্ট হয়নি। টানা দুই অর্থবছর বড় অঙ্কের লোকসানের কারণে কোম্পানিটি বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। যদিও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভেন্ডর চুক্তি ও সুদ ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমন্বয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

অন্যদিকে, ডেসকো প্রায় ৫৬০ কোটি টাকার পাওনা আদায় করতে না পেরে সংকটে পড়েছে, যার বড় অংশই আদায় অযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে। বিহারি ক্যাম্পের ২৬৩ কোটি টাকার বকেয়া নিয়ে মামলা চলমান থাকায় এ খাতে পর্যাপ্ত প্রভিশন রাখা হয়নি। পাশাপাশি বাতিল হওয়া একটি সাবস্টেশন প্রকল্প এখনো সম্পদ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যা আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

ক্রমাগত লোকসানের কারণে ডেসকো গত দুই অর্থবছরে কোনো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারেনি। কোম্পানি সচিব জানিয়েছেন, সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হলে সেগুলো দীর্ঘমেয়াদে হিসাব সমন্বয় করা হবে।

বারাকা পাওয়ার ও খুলনা পাওয়ারের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বারাকা পাওয়ার সহযোগী প্রতিষ্ঠানে ১৫৫ কোটি টাকার জামানতবিহীন ঋণ দিলেও তাদের ফেঞ্চুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

খুলনা পাওয়ারের দুটি ইউনিটের পিপিএ শেষ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গত পাঁচ বছর ধরে লোকসান গুনতে থাকায় কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে। নিরীক্ষকেরা জানিয়েছেন, সম্পদের মূল্যহ্রাসের ঝুঁকি থাকলেও কোম্পানিটি যথাযথ মূল্যায়ন করছে না।

ডরিন পাওয়ারের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষকেরা। কোম্পানিটির তিনটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ভবিষ্যতে আয় আসবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্র্যাচুইটি ও দেনা-পাওনার হিসাব সংক্রান্ত অস্পষ্টতার কারণে ডরিন পাওয়ারের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ খাতের এসব কোম্পানিকে টিকিয়ে রাখতে হলে দ্রুত পিপিএ নবায়ন এবং বাজারমুখী, টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় শেয়ারবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থেকেই যাবে।

Facebook Comments Box

Posted ১২:২১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com