ন্যাশনাল ফিডের আর্থিক কারসাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬ | 69 বার পঠিত | প্রিন্ট

ন্যাশনাল ফিডের আর্থিক কারসাজি
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ন্যাশনাল ফিড মিলস লিমিটেডের আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যাপক কারসাজি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কেনাকাটা, মুনাফা ও ঋণের সুদসহ বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের গরমিল শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে কোম্পানির আর্থিক লেনদেনে অস্বচ্ছতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে ন্যাশনাল ফিড তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে কাঁচামাল কেনা দেখিয়েছে ৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অথচ একই সময়ের ভ্যাট রিটার্নে কাঁচামাল কেনার পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রকৃত কেনাকাটার চেয়ে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা কম দেখিয়ে কোম্পানিটি মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বাড়িয়ে উপস্থাপন করেছে। আরও উদ্বেগজনক হলো, এই বিপুল অংকের কেনাকাটার কোনো লেজার, ভাউচার বা প্রমাণপত্র নিরীক্ষককে দেখাতে পারেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

Responsive Ad Banner

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংক এশিয়া থেকে নেওয়া ২৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার ঋণের কোনো স্টেটমেন্ট বা বিবরণী নিরীক্ষকের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। আর্থিক বিবরণীতে সুদের খরচ ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা কম দেখিয়ে মুনাফার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ বা ওই টাকা সমন্বয়ের কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

অনিয়মের এখানেই শেষ নয়। কোম্পানির শ্রমিক মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিলে জমা থাকা ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা কয়েক বছর ধরে শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে না। তিন বছরের বেশি সময় ধরে অবণ্টিত (আনক্লেমড) ডিভিডেন্ড বাবদ ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানেনি কোম্পানি। উল্টো সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকার ঘাটতি পাওয়া গেছে।

২০২৫ সালের জুন শেষে কোম্পানির গুদামে ৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকার মজুত (ইনভেন্টরি) থাকার কথা জানানো হলেও নিরীক্ষককে কোনো ইনভেন্টরি ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট বা মালামাল গণনার শিট দেওয়া হয়নি। কোম্পানি কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে গুদামে মালামালের বাস্তব উপস্থিতিও যাচাই করতে পারেনি নিরীক্ষক দল, যা আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নকে আরও উস্কে দিয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ৩:১৩ পিএম | রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

sharebazar24 |

মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com