বুধবার ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেটিং চালুর আগে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ চায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | 75 বার পঠিত | প্রিন্ট

নেটিং চালুর আগে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ চায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: সেকেন্ডারি মার্কেটে তারল্য বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ‘শেয়ার নেটিং’ চালুর প্রস্তাব দিলেও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের মতে, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও কঠোর তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা ছাড়া এই পদ্ধতি চালু করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অতীতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আর্থিক অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতাই এই সতর্কতার মূল কারণ।

‘শেয়ার নেটিং’ বা ‘স্ক্রিপ নেটিং’ এমন একটি ইনট্রা-ডে ট্রেডিং ব্যবস্থা, যেখানে একজন বিনিয়োগকারী একই কার্যদিবসে একটি নির্দিষ্ট শেয়ার একাধিকবার কেনা ও বিক্রি করতে পারেন। দিনশেষে মোট শেয়ার অবস্থান সমন্বয়ের সুযোগ থাকায় বাজারে লেনদেনের গতি ও তারল্য বাড়তে পারে। তবে একই সঙ্গে এই ব্যবস্থার সঙ্গে শর্ট সেলিংয়ের মতো উচ্চ ঝুঁকির বিষয়ও জড়িত থাকে।

Responsive Ad Banner

বিএসইসির এক কমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নীতিগতভাবে কমিশন নেটিং ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছে না। তবে পর্যাপ্ত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো ছাড়া এটি কার্যকর করলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তিনি আরও বলেন, ডিএসইর প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়নি; বরং নেটিং চালুর আগে নিজস্ব ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে অনেক ব্রোকারেজ হাউজ মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়ে নেতিবাচক ইক্যুইটির মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি, ব্রোকারদের মাধ্যমে নগদ অর্থ তছরুপের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বহু গ্রাহক এখনো ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় আছেন। এই বাস্তবতায়, ব্রোকারদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী না হওয়া পর্যন্ত নেটিং বা শর্ট সেলিংয়ের মতো জটিল লেনদেন ব্যবস্থা চালু করা নিরাপদ নয় বলে মনে করছে বিএসইসি।

শেয়ার নেটিং কার্যকরভাবে চালুর ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা তিনটি প্রধান শর্তের কথা উল্লেখ করেছে। প্রথমত, বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারদের বড় ধরনের লোকসান থেকে সুরক্ষিত রাখতে আধুনিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শেয়ারের দাম কমলেও সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত উপায়ে মুনাফার সুযোগ দিতে শর্ট সেলিংয়ের স্পষ্ট ও কার্যকর নীতিমালা থাকতে হবে। তৃতীয়ত, বাজারে সব সময় ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ও সক্রিয় মার্কেট মেকার গড়ে তুলতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশক আগে শেয়ারবাজারে অটোমেশন চালুর সময় ডিএসইতে নেটিং সুবিধা চালু ছিল। তবে সে সময় লেনদেনের পরিমাণ ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত। বর্তমানে বাজারের পরিসর ও লেনদেন বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া নেটিং চালু করলে বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিএসইসি ও ডিএসইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Facebook Comments Box

Posted ২:৩২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

sharebazar24 |

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com