নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | 39 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের ঋণ কিস্তি এবং ২০২৪–২৫ অর্থবছরের ঘোষিত ডিভিডেন্ড বাবদ সরকারকে মোট ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা পরিশোধ করছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এই অর্থের চেক প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, পরিশোধযোগ্য এই অর্থের মধ্যে সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সাবসিডিয়ারি ঋণ চুক্তির আওতাধীন কিস্তি এবং চলতি অর্থবছরে সরকারের প্রাপ্য ডিভিডেন্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নির্ধারিত দায় পরিশোধের অংশ
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল মালেক জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঋণ পরিশোধ ও ডিভিডেন্ড প্রদানের দায় থেকেই এই ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন প্রধান উপদেষ্টার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চেকটি তুলে দেবেন। এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত থাকবেন।
জিটুজি চুক্তিতে নেওয়া ঋণের ধারাবাহিক পরিশোধ
বিএসসি কর্মকর্তারা জানান, ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় ৬টি নতুন জাহাজ কেনার জন্য এই ঋণ নেওয়া হয়েছিল। চায়না এক্সিম ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রায় ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর অর্থ বিভাগের সঙ্গে বিএসসির একটি সাবসিডিয়ারি লোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ১৩ বছরে বিএসসি সরকারকে মোট ২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা পরিশোধ করবে। এরই ধারাবাহিকতায় এর আগে গ্রেস পিরিয়ডের সুদ বাবদ ৪৭৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করেছিল সংস্থাটি। এবারের ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা সেই ধারাবাহিক পরিশোধ প্রক্রিয়ারই অংশ।
বহরে যুক্ত জাহাজ ও চলমান কার্যক্রম
উল্লেখ্য, ২০১৮–১৯ অর্থবছরে বহরে যুক্ত হওয়া ৬টি জাহাজের মধ্যে তিনটি অয়েল ট্যাঙ্কার ও তিনটি বাল্ক ক্যারিয়ার রয়েছে। বর্তমানে এমভি বাংলার জয়যাত্রা ও এমটি বাংলার অগ্রদূতসহ মোট ৫টি জাহাজ আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে পণ্য পরিবহন করছে।
রেকর্ড মুনাফা ও বহর সম্প্রসারণ
বিদায়ী অর্থবছরে বিএসসি রেকর্ড ৩০৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যেখানে মোট রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। কর্মকর্তাদের মতে, নতুন জাহাজগুলোর সফল পরিচালনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণেই এই সাফল্য এসেছে।
এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিজস্ব অর্থায়নে কেনা ‘বাংলার প্রগতি’ গত ২৮ অক্টোবর যাত্রা শুরু করেছে। একই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় জাহাজ ‘বাংলার নবযাত্রা’ আগামী ৩০ জানুয়ারি বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি চীন থেকে আরও বড় জাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়াও বর্তমানে চলমান রয়েছে।
Posted ১১:৪৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.