নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫ | 431 বার পঠিত | প্রিন্ট
বাংলাদেশের শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে একটি বৃহৎ ইসলামি ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, সরকারের মূলধন সহায়তা পেলেই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে নতুন ব্যাংকটি, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের (এসএমই) অর্থায়নে বিশেষায়িত হবে। পাঁচ ব্যাংকের আমানত, সম্পদ ও দায়ভার নতুন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হবে।
একীভূতকরণের আওতায় রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, একীভূত হওয়ার পর গ্রাহকদের লেনদেনে কোনো সমস্যা হবে না, বরং তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ব্যাংকের গ্রাহক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। শীর্ষ পর্যায় ব্যতীত অন্যান্য কর্মীরা অন্তত তিন বছর বহাল থাকবেন।
শেয়ার বণ্টনের পদ্ধতি
সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা নতুন ব্যাংকে শেয়ার পাবেন বাজারমূল্য ও অভিহিত মূল্যের গড় হিসেবে নির্ধারিত অনুপাতে। যেমন, এক্সিম ব্যাংকের ১০০ শেয়ার (অভিহিত মূল্য ১০ টাকা, বাজারমূল্য ২ টাকা) এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ২০০ শেয়ার (অভিহিত মূল্য ১০ টাকা, বাজারমূল্য ৩ টাকা) থাকলে প্রথমজনের বাজারমূল্য হবে ২০০ টাকা এবং দ্বিতীয়জনের ৬০০ টাকা। ফলে নতুন ব্যাংকে শেয়ার বণ্টন হবে ১:৩ অনুপাতে।
লভ্যাংশের সম্ভাবনা
প্রাথমিক পর্যায়ে লভ্যাংশ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ একীভূত ব্যাংকগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে শেয়ার দেওয়া হবে, পরে ব্যাংক লাভজনক হলে লভ্যাংশ বিবেচনা করা হবে।
আমানতকারীদের নিরাপত্তা ও সরকারের ভূমিকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “আমানতকারীদের কোনো ঝুঁকি নেই। সরকার প্রাথমিকভাবে মূলধন দেবে এবং পরে তা লাভসহ ফেরত নেবে। প্রয়োজনে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে দেওয়া হতে পারে।”
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরামর্শ
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে বলেন, শেয়ার সংখ্যা কমলেও মূল্যমান অপরিবর্তিত থাকবে। প্রাথমিক পর্যায়ে লভ্যাংশ না পেলেও দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংক শক্তিশালী হলে বিনিয়োগকারীরা সুফল পেতে পারেন।
পটভূমি
একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মজুমদারের মালিকানাধীন। বাকি চারটি ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে, যারা বিগত সরকারে বিভিন্ন নামে অর্থ উত্তোলনের কারণে আর্থিক সংকটে পড়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং অন্তর্বর্তী সরকার এক্সিম ছাড়া বাকি চার ব্যাংকে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়।
Posted ২:২৫ পিএম | সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.