নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ | 24 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন বিধিমালার আওতায় দেশের সবচেয়ে পুরোনো ইউনিট ফান্ডকে নিবন্ধনের উদ্যোগ ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘আইসিবি ইউনিট ফান্ড’-কে নতুন নিয়ম থেকে অব্যাহতি দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানিয়েছে।
আইসিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৮১ সালে মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে চালু হওয়া ‘আইসিবি ইউনিট ফান্ড’ দেশের প্রথম ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড। এটি আইসিবি অধ্যাদেশ, ১৯৭৬-এর অধীনে প্রণীত ‘আইসিবি ইউনিট ফান্ড রেগুলেশনস, ১৯৮১’ অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছে। সে কারণে এতদিন ফান্ডটি বিএসইসির নিবন্ধনের বাইরে ছিল।
তবে সম্প্রতি জারি করা ‘মিউচুয়াল ফান্ড রুলস ২০২৫’-এ কমিশনের নিবন্ধন ও অনুমোদিত অ্যাসেট ম্যানেজারের মাধ্যমে ফান্ড পরিচালনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ বিধানের আওতায় আইসিবি ইউনিট ফান্ডকে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে গত মার্চে ৪৫ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে বিএসইসি। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আরও সাত দিনের আলটিমেটাম দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
গত ৫ মে পাঠানো এক চিঠিতে বিএসইসি জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে ১২ মে। এর আগেই ১১ মে কমিশনকে পাঠানো চিঠিতে আইসিবি জানায়, বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আইসিবির আশঙ্কা, নতুন বিধিমালার আওতায় নিবন্ধন নিতে হলে ফান্ড পরিচালনা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে অনিবন্ধিত অবস্থায় ফান্ডটির বার্ষিক পরিচালন ব্যয় প্রায় ৪১ কোটি ২৪ লাখ টাকা হলেও নতুন আইনের অধীনে তা বেড়ে প্রায় ৭৮ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। এতে ইউনিটধারীদের প্রাপ্ত লভ্যাংশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ব্যয় বৃদ্ধি ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কারণে ইউনিট সমর্পণের হার বাড়তে পারে। বিশেষ করে ফান্ডটির অধিকাংশ বিনিয়োগকারী স্থায়ী আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রবীণ ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারী হওয়ায় আকস্মিক পরিবর্তন তাদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে আইসিবি।
আইসিবির তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত ফান্ডটির বিনিয়োগকৃত শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪ হাজার ৮০১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বড় পরিমাণ ইউনিট সমর্পণের চাপ তৈরি হলে ইউনিটধারীদের অর্থ পরিশোধের জন্য বাজারে বিদ্যমান শেয়ার বিক্রি করতে হতে পারে, যা সামগ্রিক শেয়ারবাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১৯৮১ সালে মাত্র ১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা আইসিবি ইউনিট ফান্ড বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৯০৯ কোটি টাকার তহবিলে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ফান্ডটি মোট ৬ হাজার ৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ডিভিডেন্ড বিতরণ করেছে। একসময় ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা লভ্যাংশ দিলেও সাম্প্রতিক প্রতিকূল বাজার পরিস্থিতিতেও ৩০ টাকা করে ডিভিডেন্ড দিয়েছে ফান্ডটি। বর্তমানে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি ইউনিটের সমর্পণ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৬৪ টাকা।
Posted ৯:৩৬ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.