শনিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২১ মে ২০২৫ | 200 বার পঠিত | প্রিন্ট

আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা বাড়ছে
Responsive Ad Banner

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে তাদের জন্য বরাদ্দ ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে শেয়ারবাজার সংস্কার বিষয়ক টাস্কফোর্স। একইসঙ্গে, যোগ্য বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কোটা ১০ শতাংশ কমিয়ে ৪০ শতাংশে নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আইপিও ও মিউচুয়াল ফান্ড সংশ্লিষ্ট বিধিমালার চূড়ান্ত সংশোধনী জমা দিয়েছে টাস্কফোর্স।

Responsive Ad Banner

এর আগে গত মার্চ মাসে প্রাথমিক খসড়া প্রকাশ করে জনমত চাওয়া হয়। প্রায় ৬০০ জন বিনিয়োগকারী ও স্টেকহোল্ডারের মতামতের ভিত্তিতে ছোটখাটো কিছু সংশোধন করে নতুন এ প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে টাস্কফোর্স।

টাস্কফোর্সের এক সদস্য জানান, প্রাথমিকভাবে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান হারে ৫০ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব ছিল। তবে জনমত যাচাইয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ মানুষ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা বাড়ানোর পক্ষে। সে কারণে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বেশকিছু উত্তরদাতা আইপিও অনুমোদন আগামী তিন বছর বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন, কেউ কেউ বলেছেন, ডিএসইর প্রধান সূচক ৭ হাজার পয়েন্টে না পৌঁছানো পর্যন্ত নতুন আইপিও অনুমোদন না দিতে। যদিও এসব সুপারিশ আইনি কাঠামোর আওতায় পড়ে না, তবুও এমন মতামত বিস্ময়কর ছিল।

বিএসইসি সূত্র বলছে, অতীতে আইপিওর কোটা ব্যবস্থা একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। খায়রুল হোসেনের সময়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩০ শতাংশ, যা পরে শিবলী রুবাইতের সময় ৭৫ শতাংশে উন্নীত হয়। তবে অতিরিক্ত বরাদ্দে কিছু আইপিও আন্ডারসাবস্ক্রাইব হয়ে যায়, যেমন মিডল্যান্ড ব্যাংকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে।

চূড়ান্ত প্রস্তাবে আরও কিছু সংস্কারের বিষয় রয়েছে—

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের বিডিং সীমা ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হবে, যাতে অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারে।

তালিকাভুক্তির পর প্রথম তিন দিন সার্কিট ব্রেকার কার্যকর না করার প্রস্তাব রয়েছে, যাতে দরপ্রকাশ স্বাভাবিক গতিতে হয়।

কাট-অফ মূল্যের নিচে কোনো ছাড় না দেওয়ার নীতিও থাকছে, যাতে ইস্যুকারীরা নির্ধারিত প্রিমিয়াম পেতে পারেন।

আইপিও আবেদন করার জন্য ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগের পূর্বশর্ত বাতিল করা হবে, যাতে আরও বেশি সাধারণ বিনিয়োগকারী আবেদন করতে পারেন।

পাশাপাশি, বাজারে মানসম্পন্ন শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে উচ্চ টার্নওভারের মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি এবং বড় কর্পোরেটদের সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ দেওয়া হবে। এদের জন্য অফলোডের বাধ্যবাধকতা ১০ শতাংশ কমানো হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ঋণ এক হাজার কোটি টাকার বেশি, তাদের তালিকাভুক্তির বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হবে।

তবে, বুক বিল্ডিং আইপিওর জন্য প্রস্তাবিত ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা এবং স্থির দামে ইস্যুর জন্য ৩০ কোটি টাকা।

শেয়ারবাজারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে টাস্কফোর্সের এই চূড়ান্ত প্রস্তাবটি এখন বিএসইসির অনুমোদনের অপেক্ষায়।

Facebook Comments Box

Posted ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২১ মে ২০২৫

sharebazar24 |

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com