নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | 32 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুছ ছালাম আজাদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান অনুসন্ধানে তার সম্পৃক্ততায় কয়েক হাজার কোটি টাকার অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি একাধিক মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুদক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যাংকটির বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত ঋণ অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে বেক্সিমকো গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, অ্যাননটেক্স এবং ক্রিসেন্ট গ্রুপসহ বেশ কিছু বড় শিল্পগোষ্ঠীর নাম উঠে এসেছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জনতা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ বর্তমানে অন্তত ৫৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপের প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা এবং এস আলম গ্রুপের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অ্যাননটেক্স গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ঋণ জালিয়াতি মামলায় ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাত ও সাবেক এমডি আব্দুছ ছালাম আজাদসহ মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে চার্জশিট দাখিল করেছে দুদক। ওই মামলাতেই আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুদকের আইনজীবীরা জানান, এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আব্দুছ ছালাম আজাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। একাধিক মামলায় তার সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে তারা দাবি করেন।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তার দায়িত্বকালীন সময়ে বিভিন্ন বড় অঙ্কের ঋণ অনিয়ম সংঘটিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত সম্পদের তুলনায় অতিমূল্যায়ন দেখিয়ে ঋণ অনুমোদনের অভিযোগও রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক খাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। তারা ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দুদক জানিয়েছে, জনতা ব্যাংকের আরও বিভিন্ন ঋণ অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
Posted ৮:৩৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.