নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ | 13 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে আলোচিত কোয়েস্ট বিডিসি পিএলসিকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ অনিয়মের ঘটনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। ওটিসি মার্কেটে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটিতে বিধি লঙ্ঘন করে বিনিয়োগের পেছনে কার ভূমিকা রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
জানা গেছে, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড কোয়েস্ট বিডিসিতে ৬৮ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে, যা মিউচুয়াল ফান্ডের নিয়মাবলীর পরিপন্থী। এই বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএসইসির প্রশাসন বিভাগের এক নির্দেশনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে চিফ অ্যাকাউন্ট্যান্ট কামরুল আনাম খান, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া এবং উপপরিচালক মো. রফিকুন্নবীকে সদস্য করা হয়েছে।
এর আগে একই ঘটনায় এলআর গ্লোবালের ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগের জন্য ছয় ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা জরিমানা করে কমিশন। পাশাপাশি, অর্থপাচারের সম্ভাব্য অভিযোগে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধান কমিটি জমা দেওয়া প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী কোয়েস্ট বিডিসির অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত তৎকালীন এসআরএমআইসি ও সিআই বিভাগের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হবে।
সূত্রমতে, মূল বোর্ড থেকে তালিকাচ্যুত পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেড পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে কোয়েস্ট বিডিসি হয়। লোকসানি ও বন্ধপ্রায় সেই কোম্পানিতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কিছু কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।
ওটিসি মার্কেটে থাকা এই প্রতিষ্ঠানে এলআর গ্লোবালের ছয়টি ফান্ড থেকে প্রায় ৬৮ কোটি টাকা নিয়ম লঙ্ঘন করে বিনিয়োগ করা হয়। এ ঘটনায় বিএসইসির ৯৭৮তম সভায় সংশ্লিষ্টদের জরিমানা এবং সুদসহ প্রায় ৯০ কোটি টাকা ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একই ঘটনায় বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া কোয়েস্ট বিডিসি থেকে ২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা খায়রো কেয়ারে হস্তান্তরের ঘটনাকে অর্থপাচারের সন্দেহে দুদকে পাঠানো হয়েছে।
আরও জানা যায়, এলআর গ্লোবাল পদ্মা প্রিন্টার্সের ৫১ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করে কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে। প্রথম ধাপে প্রায় ২৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হলেও ট্রাস্টি কিংবা কমিশনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এমনকি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ১৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৮৯ টাকা ৪৮ পয়সায় কেনা হয়েছে, যা অস্বাভাবিক বলে বিবেচনা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
Posted ৫:৫৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.