বৃহস্পতিবার ২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওপেন-এন্ডে রূপান্তর বা লিকুইডেশনে দীর্ঘসূত্রিতা, অনিশ্চয়তায় ইউনিটহোল্ডাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ | 7 বার পঠিত | প্রিন্ট

ওপেন-এন্ডে রূপান্তর বা লিকুইডেশনে দীর্ঘসূত্রিতা, অনিশ্চয়তায় ইউনিটহোল্ডাররা
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড সময়মতো ওপেন-এন্ডে রূপান্তর বা লিকুইডেশন না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্থ ফেরত পেতে দীর্ঘ বিলম্বের শিকার হচ্ছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগ আটকে থাকায় অর্থের কার্যকর ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে।

এর একটি উদাহরণ এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড। গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তরের কথা থাকলেও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্প্রতি এ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে।

Responsive Ad Banner

ফান্ডটির এক ইউনিটহোল্ডার জানান, গত বছরের অক্টোবরে ট্রাস্টি ইউনিটহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল। কিন্তু অপ্রত্যাশিত এ বিলম্বের কারণে বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এবং তাদের অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার করবেন তা নির্ধারণ করতে পারছেন না।

ফান্ডটির ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি)-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এখনও কমিশনের সম্মতিপত্র পাননি। এটি হাতে পেলেই দ্রুত রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

অপরদিকে, এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ডের ইউনিটহোল্ডারদের বিনিয়োগ ফেরত পেতে ছয় মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। সাধারণত ফান্ড লিকুইডেশন সম্পন্ন হলে বিনিয়োগকারীরা অর্থ ফেরত পান, আর ওপেন-এন্ডে রূপান্তরের পর নির্দিষ্ট শর্তে টাকা উত্তোলনের সুযোগ থাকে।

বিজিআইসির এক কর্মকর্তা জানান, ফান্ড রূপান্তর বা লিকুইডেশনের অনুমোদন দিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনেক সময় নেয়। নানা প্রশ্ন তোলা ও জনবল সংকটও বিলম্বের একটি কারণ হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমানে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই বিএসইসির। তবে ট্রাস্টিদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইউনিটহোল্ডারদের সভা আয়োজন করে প্রস্তাব জমা দিতে হয়।

বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, ফান্ড রূপান্তর বা লিকুইডেশনের আগে সংশ্লিষ্ট নথি, অডিট রিপোর্ট ও সম্পদের মূল্যায়ন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে হিসাবের অসঙ্গতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এ পরিস্থিতিতে প্রক্রিয়াকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আনতে নতুন নির্দেশিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা রূপান্তর, লিকুইডেশন এবং ফান্ড একীভূতকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি করবে।

সংশোধিত মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুযায়ী, নোটিশ দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইউনিটহোল্ডারদের নিয়ে বিশেষ সভা করতে হবে। সেখানে উপস্থিত ইউনিটহোল্ডারদের তিন-চতুর্থাংশের ভোটে ফান্ড লিকুইডেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাস্টিকে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর কমিশন লিখিত সম্মতি দিলে সাত দিনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অর্থ বিতরণ করতে হবে।

এদিকে সংশোধিত বিধিমালায় ফান্ড একীভূতকরণের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে, যা গত নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে একই অ্যাসেট ম্যানেজারের অধীনে থাকা ছোট আকারের একাধিক ফান্ড একীভূত করা গেলে পরিচালন ব্যয় কমবে এবং সম্পদের কার্যকারিতা বাড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংস্কার কার্যকর হলে ফান্ড ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকিও আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box

Posted ১০:২০ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

sharebazar24 |

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com