নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | 3 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ২১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার বাস্তবায়িত ও অবাস্তবায়িত মুনাফার তথ্য পাওয়ার পর এবার অভিযুক্ত আজাদ হোসেন পাটোয়ারী এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থের উৎস অনুসন্ধানে নেমেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর আগে শেয়ার কারসাজির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে দুই কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এবার তাঁর আর্থিক লেনদেনে সম্ভাব্য মানি লন্ডারিংয়ের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় এ তদন্ত পরিচালনার জন্য গত রোববার একটি আদেশ জারি করেছে বিএসইসি। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পাঠানো বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনা করেই নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্রমতে, বিএফআইইউর বিশেষ প্রতিবেদনে আজাদ হোসেন পাটোয়ারী ও তাঁর সহযোগীদের নামে বিভিন্ন তফশিলি ব্যাংক, স্টক ডিলার এবং স্টক ব্রোকার প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হিসাবগুলোর আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এসব হিসাবের মাধ্যমে কী পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে, অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং পরবর্তী সময়ে কোথায় স্থানান্তরিত হয়েছে, তা অনুসন্ধানের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিএফআইইউর প্রতিবেদনে থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করে ইনসাইডার ট্রেডিং বা অভ্যন্তরীণ তথ্যের ভিত্তিতে শেয়ার লেনদেন এবং মার্কেট ম্যানিপুলেশন বা বাজার কারসাজির মতো অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করেছে বিএসইসি। পুনর্গঠিত কমিটিকে আজাদ হোসেন পাটোয়ারী এবং তাঁর সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের আর্থিক লেনদেন বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নগদ অর্থের প্রকৃত উৎস শনাক্ত, বিভিন্ন হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের তথ্য যাচাই এবং লেনদেনের ধারাবাহিকতা পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে শেয়ারবাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং ও সংঘবদ্ধ কারসাজির অভিযোগে আলোচনায় আসেন আজাদ হোসেন পাটোয়ারী। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার নিয়ে সংঘটিত কারসাজির ঘটনায় বিএসইসির তদন্তে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
কমিশনের তদন্তে উঠে আসে, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত সময়ে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে কৃত্রিম লেনদেন সৃষ্টি এবং শেয়ারের দর প্রভাবিত করার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব অনিয়মে আজাদ হোসেন পাটোয়ারীর সম্পৃক্ততা পাওয়ায় গত মাসে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিএসইসি।
তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার কারসাজির মাধ্যমে আজাদ হোসেন পাটোয়ারী ৮ কোটি ২১ লাখ টাকার রিয়েলাইজড গেইন বা শেয়ার বিক্রি করে অর্জিত মুনাফা করেন। অর্থাৎ শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে তিনি এই পরিমাণ মুনাফা বাস্তবায়ন করেন।
অন্যদিকে তদন্তের আওতাধীন অবিক্রীত শেয়ার থেকে তাঁর আরও ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার আনরিয়েলাইজড গেইন বা কাগুজে মুনাফা ছিল। অর্থাৎ ওই শেয়ারগুলো বিক্রি না করলেও বাজারদরের ভিত্তিতে তাঁর বিনিয়োগে এই পরিমাণ মুনাফা দেখানো হয়েছিল।
সে হিসাবে সংশ্লিষ্ট সময়ে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত মুনাফা এবং অবিক্রীত শেয়ারের কাগুজে মুনাফা মিলিয়ে মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ২১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। তবে এর মধ্যে প্রকৃতপক্ষে শেয়ার বিক্রি করে অর্জিত মুনাফা ছিল ৮ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বাকি ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ছিল অবিক্রীত শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিজনিত মুনাফা।
বিএসইসির তদন্তে শেয়ার কারসাজির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর আজাদ হোসেন পাটোয়ারীকে দুই কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। এ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক আদেশও জারি করা হয়েছে।
তবে শেয়ার কারসাজির দায়ে জরিমানা আরোপের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এবার অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব ও শেয়ারবাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং অর্থের গতিপথ বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে বিভিন্ন তফশিলি ব্যাংক, স্টক ডিলার ও স্টক ব্রোকার প্রতিষ্ঠানের হিসাব ব্যবহার করে অর্থের স্থানান্তর, নগদ অর্থের উৎস এবং এসব লেনদেনের সঙ্গে সম্ভাব্য মানি লন্ডারিংয়ের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
বিএফআইইউর বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এ তদন্তে শেয়ার কারসাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থের উৎস, লেনদেনের প্রকৃতি এবং পরবর্তী সময়ে ওই অর্থ কীভাবে ব্যবহার বা স্থানান্তর করা হয়েছে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক লেনদেনে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, সেটিও অনুসন্ধানের আওতায় থাকবে।
Posted ৮:০১ পিএম | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.