নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | 32 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে দেশের শেয়ারবাজার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধসের মুখোমুখি হয়েছিল। শেয়ারবাজার উন্নয়নের নামে তখন নেয়া হয়েছিল নিছক প্রদর্শনীমূলক উদ্যোগ, যা বাজারকে স্থিতিশীল করতে ব্যর্থ হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই সরকারের পতনের পর অন্যান্য খাতের মতো শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক ছাপ পড়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতেই বাজার তলানী থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও তা পূর্ণ স্থিতিশীলতা পায়নি। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বাজারে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়, যার ফলে সূচক ও লেনদেনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়।
বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শেয়ারবাজার। এই বাজারকে আরও মজবুত করতে সরকার পূর্বের কমিশন বিলুপ্ত করে নতুন কমিশন গঠন করেছে, যেন বাজার আরও স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব হয়। কিন্তু নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই টানা দরপতন দেখা দিয়েছে। মাঝেমধ্যে সূচক বৃদ্ধি পেলেও তা প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। ফলে বাজারের প্রতি আস্থা থাকলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বর্তমান কমিশনের উপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকটে পড়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, বাজারের এই করুণ অবস্থার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার বর্তমান কমিশন দায়ী। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণে তারা ব্যর্থ হয়েছে। বাজার সংস্কার ও উন্নয়নের কথা বলা হলেও ধারাবাহিক পতন রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। বর্তমান কমিশন শেয়ারবাজার সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। সরকার যখন মন্ত্রিসভা পরিবর্তন করতে পারে, তখন বাজার উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বর্তমান কমিশন ভেঙে নতুন কমিশন গঠন কোনো কঠিন কাজ নয়। পরিস্থিতি এমনভাবে চলতে থাকলে বিনিয়োগকারীরা শুধু বাজার উন্নয়নই নয়, বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানসহ বর্তমান কমিশনের পদত্যাগ দাবি করবেন।
এদিকে, আজ (১৩ অক্টোবর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক সামান্য বৃদ্ধি পেলেও অন্য দুই সূচক এবং টাকার অঙ্কে লেনদেন কমেছে। একইসঙ্গে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরও হ্রাস পেয়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, মঙ্গলবার সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪.০৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪০৮.৯০ পয়েন্টে। অন্যদিকে, ডিএসইএস ০.৫৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭০.১৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৫.১০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৮৯.৪৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৮৭টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৯৫টির দর বেড়েছে, ১৩৭টির দর কমেছে এবং ৫৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইতে আজ প্রায় ৪১৬ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৪৫২ কোটি ৮১ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন কমেছে প্রায় ৩৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২৯ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।
আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৭৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৫৭টির, কমেছে ৯৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টির।
এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৬.৫৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫২৪.৬৩ পয়েন্টে। আগের দিন সূচকটি ৮৪.০২ পয়েন্ট কমেছিল।
Posted ৩:১৫ পিএম | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.