মার্জিন ঋণে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ | 52 বার পঠিত | প্রিন্ট

মার্জিন ঋণে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তারল্য ও লেনদেন বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘বিএসইসি (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ব্যাংক, বিমা ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) শেয়ারে মার্জিন অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত ‘পিই রেশিও’র পরিবর্তে ‘পিবি রেশিও’ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ এবং বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় ‘পিবি রেশিও’ বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে কমিশন।

বিএসইসির সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক, এনবিএফআই এবং সাধারণ বিমা খাতে ‘পিবি রেশিও’ না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে পরীক্ষামূলকভাবে জীবনবিমা খাতে ‘পিবি রেশিও’ রাখার বিষয়ে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।

Responsive Ad Banner

গত ১৯ জুলাই সংশোধিত খসড়া বিধিমালা প্রকাশ করে অংশীজনদের কাছ থেকে মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি চেয়েছিল বিএসইসি। এ জন্য নির্ধারিত দুই সপ্তাহের সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন পাওয়া মতামত ও প্রস্তাবগুলো কমিশন সভায় পর্যালোচনা করা হবে। এরপর বিধিমালাটি চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে।

খসড়া বিধিমালায় ব্যাংক, বিমা ও এনবিএফআই ছাড়া অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে পিই রেশিও ৩০-এর বেশি হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারকে মার্জিন ঋণের জন্য অযোগ্য বিবেচনার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এ সীমা বাড়িয়ে ৪০ করার চিন্তা করছে কমিশন। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আরও বেশি সংখ্যক কোম্পানির শেয়ার মার্জিন সুবিধার আওতায় আসবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহকের ইকুইটি ৭৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে মার্জিন কল দেওয়ার বিধান রয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাবে এই সীমা কমিয়ে ৭০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মার্জিন কল দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ইকুইটি পুনরুদ্ধারের জন্য গ্রাহককে তিন কার্যদিবস সময় দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এদিকে গ্রাহকের ইকুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে আগাম নোটিশ দিয়ে শেয়ার বিক্রির সুযোগ এবং ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রির বিধান যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে কমিশন। তবে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন সিইও ফোরাম জোরপূর্বক শেয়ার বিক্রির সীমা ৪০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধিত বিধিমালায় স্টকব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক ও পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপকদের মূলধন বা নিট সম্পদের সর্বোচ্চ পাঁচগুণ পর্যন্ত মার্জিন ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে এ সীমা মূলধন বা নিট সম্পদের তিনগুণ। অর্থাৎ নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ১০০ টাকা মূলধনের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে।

এ ছাড়া মার্জিন ঋণ গ্রহণের জন্য গ্রাহকের বিও হিসাবে ন্যূনতম সিকিউরিটিজের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমান ব্যবস্থায় ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারের পাশাপাশি ‘বি’ ক্যাটাগরির যেসব কোম্পানি ৫ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেয়, সেসব কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন সুবিধা পাওয়া যায়। নতুন ব্যবস্থায় ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির সব কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন ঋণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে ‘জেড’, ‘এন’ ও ‘জি’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানি, এসএমই মার্কেটের শেয়ার এবং এটিবি ও ওটিসি প্ল্যাটফর্মে থাকা সিকিউরিটিজ মার্জিন ঋণের আওতার বাইরে রাখা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্জিন বিধিমালা সহজ ও উদার করা হলে শেয়ারবাজারে তারল্য এবং লেনদেন বাড়তে পারে। তবে কম লভ্যাংশ দেওয়া ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারে মার্জিন সুবিধা চালু এবং পিই রেশিওর সর্বোচ্চ সীমা ৪০ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

একই সঙ্গে কোনো একটি নির্দিষ্ট শেয়ারে মার্জিন ঋণদাতার অর্থায়নের সর্বোচ্চ সীমা মোট তহবিলের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হলে ওই শেয়ারে ঋণের ঘনত্ব বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, মার্জিন ঋণসংক্রান্ত প্রস্তাবটি বর্তমানে সর্বশেষ কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই। তবে কমিশন বাজারের জন্য ইতিবাচক ও বিনিয়োগবান্ধব সিদ্ধান্ত নেবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছেন, ‘পিবি রেশিও’ নিয়ে বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ায় বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। তাঁর মতে, কোনো বিধান বাজারের জন্য ভালোভাবে বোঝা না গেলে সেটি কার্যকর হওয়ার পর ‘হিতে বিপরীত’ ফল বয়ে আনতে পারে। এ কারণে অংশীজনদের যৌক্তিক মতামত ও পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে বিধিমালার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

Posted ১১:৩৯ এএম | বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com