নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | 19 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা চার দিনের পতনে ১৩৩ পয়েন্ট হারানোর পর এক দিনে মাত্র ৫৭ পয়েন্ট ফিরে আসায় বিনিয়োগকারীদের মনে স্বস্তি ফিরেনি। তাদের প্রশ্ন, এত সামান্য উত্থানে লাভ কী, যখন আশঙ্কা করা হচ্ছে আগামীকাল থেকেই আবার টানা পতন শুরু হতে পারে। এমনকি এবারের পতনে সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে সামান্য এই উত্থান বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কতটা সক্ষম হবে, তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান কমিশন যে বাজার নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণভাবে অক্ষম, তা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তাদের ইচ্ছা থাকলেও এই বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে পারবে না বলে মনে করছেন তারা। তাদের মত অনুযায়ী, বর্তমান কমিশনের আমলেই সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছেছিল এবং লেনদেনও সন্তোষজনক ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে টানা পতনের ফলে বাজার বর্তমানে তলানীর দিকে এগিয়ে চলেছে। এর ফলেই এই কমিশনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে।
স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ২০১০ সালের মহাধসের ঠিক আগ পর্যন্ত বাজারে সূচক ও লেনদেন ছিল অত্যন্ত উচ্চতায়, যার ফলে ওই সময়ে নতুন বিনিয়োগকারীর সংখ্যাও বেড়েছিল। অনেকেই বিনিয়োগ করার পর সেই বাজারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধস নেমে আসে। বর্তমান কমিশনের বাজার পরিস্থিতি সেই ঘটনারই স্মৃতি জাগাচ্ছে। তারা বাজারে স্থিতিশীলতা দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করে বাজারে দরপতনের কবলে ফেলেছে। তাই এই কমিশনের সময়ে বাজার স্থিতিশীল হবে—এটা এখন আর বিনিয়োগকারীরা বিশ্বাস করেন না। ধারাবাহিক দরপতন বর্তমান কমিশনের আগের সাফল্যকে ম্লান করে দিয়েছে। তাই কমিশনের সম্মান রক্ষার্থে পদত্যাগ করা উচিত। কারণ বর্তমান কমিশন সংস্কার ও উদ্যোগের কথা বলা ছাড়া বাজারে ইতিবাচক কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। বাজারে এখনো কারসাজি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের ইচ্ছাতেই বাজার নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, যার কারণে বাজারের এমন বেহাল দশা।
এদিকে, আজ (০৪ নভেম্বর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক বাড়লেও টাকার অঙ্কে লেনদেন কমেছে। এছাড়া লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বুধবার সপ্তাহের চতুর্থ কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৭.৩১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৪১.৬৩ পয়েন্টে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৬.৫৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬.৮৭ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ১৫.৭৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৩৭.৬১ পয়েন্টে।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৮৩টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৮২টির দর বেড়েছে, ৫১টির দর কমেছে এবং ৫০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইতে এদিন প্রায় ৫২২ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৫৬৫ কোটি ৮২ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন কমেছে প্রায় ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
এদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে ১২ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।
আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৪৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৮১টির, কমেছে ৪১টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২৫টির।
এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০০.৬৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩১৫.৩৫ পয়েন্টে। আগের দিন সূচক সিএএসপিআই ১৭৪.৯৫ পয়েন্ট কমেছিল।
Posted ৩:২৯ পিএম | বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.