নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ | 21 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন খসড়া গাইডলাইন অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (অডিট ফার্ম ও তাদের অংশীদারদের তালিকাভুক্তি) গাইডলাইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর আগামী ৪ জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি আহ্বান করা হয়েছে।
রোববার অনুষ্ঠিত বিএসইসির ১০১৫তম জরুরি কমিশন সভায় এ খসড়া গাইডলাইনের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা শেষে কমিশনের পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনমত যাচাইয়ের লক্ষ্যে খসড়া গাইডলাইন কমিশনের ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করা হবে। আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত লিংক অথবা কিউআর কোড স্ক্যান করে গাইডলাইন সংগ্রহ করতে পারবেন এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে মতামত জমা দিতে পারবেন।
বিএসইসির মতে, নতুন এই গাইডলাইন কার্যকর হলে অডিট ফার্ম ও তাদের অংশীদারদের পেশাগত মান, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
খসড়া গাইডলাইন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড এবং রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (রিইট) ফান্ডের আর্থিক প্রতিবেদন শুধুমাত্র বিএসইসির প্যানেলভুক্ত অডিট ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষা করতে হবে।
প্যানেলভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে একটি অডিট ফার্মে ন্যূনতম তিনজন অংশীদার থাকতে হবে। এর মধ্যে অন্তত দুজনের পাঁচ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারকে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) তালিকাভুক্ত হতে হবে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে কোনো ফৌজদারি অপরাধ, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলন বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার শাস্তির রেকর্ড থাকলে সংশ্লিষ্ট অডিট ফার্ম বা অংশীদার তালিকাভুক্তির অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
নিরীক্ষার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে অডিট ফার্মের কোনো আর্থিক, ব্যক্তিগত কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থ নিরীক্ষাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারবে না বলেও গাইডলাইনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএসইসি অডিট ফার্মগুলোকে তিনটি পৃথক ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত করবে। এগুলো হলো— আইপিও ও বিশেষ নিরীক্ষা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও ফান্ডের বিধিবদ্ধ নিরীক্ষা এবং শেয়ারবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা কার্যক্রম।
খসড়া গাইডলাইন অনুযায়ী, অডিট ফার্ম ও তাদের অংশীদারদের অংশীদার পরিবর্তন, ঠিকানা পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সংযুক্তি বা সম্পৃক্ততার মতো তথ্য নিয়মিত কমিশনে জমা দিতে হবে। এছাড়া মিথ্যা তথ্য প্রদান, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন, আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা মান লঙ্ঘন কিংবা নিরীক্ষাধীন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ধারণের মতো ঘটনায় কমিশন প্যানেলভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে।
এছাড়া একই অডিট ফার্ম বা নিরীক্ষক টানা তিন বছরের বেশি কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা ফান্ডের নিরীক্ষা করতে পারবেন না বলেও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা মান এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুসরণ করেই নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে। একই সঙ্গে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে নিরীক্ষা ফি, ব্যয় হওয়া কর্মঘণ্টা এবং কোনো আইন বা মানদণ্ড লঙ্ঘিত হলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।
Posted ৬:২৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.