নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | 9 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক—সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)—বড় ঋণ খেলাপিদের কারণে তীব্র আর্থিক চাপে পড়েছে। ব্যাংকগুলোর মোট শ্রেণীকৃত ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মাত্র ২০ জন বড় ঋণগ্রহীতার কাছেই আটকে রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ছয় ব্যাংকের মোট শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছেই আটকে আছে প্রায় ৯১ হাজার কোটি টাকা। তবে চলতি ২০২৫ সালে এসব খেলাপির কাছ থেকে আদায় হয়েছে মাত্র কয়েকশ কোটি টাকা, যা মোট বকেয়ার তুলনায় খুবই নগণ্য।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে জনতা ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছেই প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে, যার বিপরীতে আদায়ের পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত।
অন্যদিকে রূপালী ব্যাংক তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি আদায় করতে সক্ষম হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে সোনালী, অগ্রণী, বেসিক ব্যাংক এবং বিডিবিএলেও।
প্রতিবেদন বলছে, কয়েকটি বড় গ্রুপের কাছে বিপুল পরিমাণ ঋণ কেন্দ্রীভূত থাকায় ব্যাংকগুলোর আর্থিক ঝুঁকি বাড়ছে। এর ফলে একাধিক ব্যাংক ইতোমধ্যে মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে।
২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক উল্লেখযোগ্য মূলধন ঘাটতির মুখে রয়েছে। যদিও সোনালী ব্যাংক কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে এ বছর উদ্বৃত্ত মূলধন দেখাতে পেরেছে।
এদিকে, একই সময়ে ব্যাংকগুলোর আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি পেলেও ঝুঁকির চাপ কমেনি। বরং বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সীমিত সংখ্যক বড় ঋণগ্রহীতার কাছে বিপুল অর্থ আটকে থাকা ব্যাংকিং খাতের জন্য বড় ধরনের দুর্বলতা তৈরি করছে। তারা কঠোর আইন প্রয়োগ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং কার্যকর তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে ব্যাংক খাতে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
Posted ৮:৫৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.