নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | 90 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ওআইএমইএক্স ইলেকট্রোড লিমিটেডের মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) আগের বছরের তুলনায় ব্যাপক হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) বৃদ্ধি এবং পরিচালন কার্যক্রমে শেয়ারপ্রতি ঋণাত্মক নগদ প্রবাহের পরিমাণ কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য উদ্যোক্তা ও পরিচালক ছাড়া সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।
কোম্পানিটির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন ও লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওআইএমইএক্স ইলেকট্রোডের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩৮ পয়সা। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল মাত্র ৩ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৩৫ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এ প্রবৃদ্ধি প্রায় ১ হাজার ১৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, পরিচালন আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি কাঁচামালের ব্যয় কমে যাওয়ায় মুনাফায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়া এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাওয়ার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে কোম্পানিটির সামগ্রিক মুনাফায়। এর ফলে আগের অর্থবছরের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও বেড়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৬৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৩ টাকা ২৭ পয়সা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৩৮ পয়সা।
অন্যদিকে, কোম্পানিটির পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক থাকলেও আগের বছরের তুলনায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক ১০ টাকা ১৩ পয়সা হয়েছে। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই নগদ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ৪৩ টাকা ৪৪ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি ঋণাত্মক নগদ প্রবাহের পরিমাণ ৩৩ টাকা ৩১ পয়সা কমেছে।
পরিচালন নগদ প্রবাহের এই পরিবর্তনের কারণও ব্যাখ্যা করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। তাদের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য অর্থবছরে সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধের পরিমাণ কমেছে। একই সঙ্গে মজুতপণ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে দ্রুত পাওনা আদায়ের ফলে পরিচালন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য নগদ অর্থপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে আগের অর্থবছরের তুলনায় ঋণাত্মক নগদ প্রবাহের পরিমাণ অনেকটাই কমেছে।
তবে উন্নতি সত্ত্বেও কোম্পানিটির পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহ এখনো ঋণাত্মক অবস্থানে রয়েছে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ
এদিকে, আর্থিক ফলাফলে উন্নতির পাশাপাশি ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে ওআইএমইএক্স ইলেকট্রোডের পরিচালনা পর্ষদ।
তবে ঘোষিত এই নগদ লভ্যাংশ কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ উদ্যোক্তা ও পরিচালক ছাড়া অন্যান্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা অনুমোদন সাপেক্ষে এ লভ্যাংশ পাবেন।
২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের অর্থ হলো, প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা হলে শেয়ারপ্রতি ২০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ পাওয়া যাবে।
পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশ করা লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) উপস্থাপন করা হবে।
ঘোষণা অনুযায়ী, কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী ২৭ ডিসেম্বর ২০২৬, রোববার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।
সভাস্থল নির্ধারণ করা হয়েছে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকার গুলশান অ্যাভিনিউতে অবস্থিত গুলশান শুটিং ক্লাবের দ্বিতীয় তলায়। সভাস্থলের পূর্ণ ঠিকানা গুলশান শুটিং ক্লাব (দ্বিতীয় তলা), গুলশান অ্যাভিনিউ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২।
এ ছাড়া লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণ এবং বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশগ্রহণের জন্য আগামী ২৯ নভেম্বর ২০২৬ রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করেছে কোম্পানিটি।
সার্বিকভাবে, সমাপ্ত অর্থবছরে ওআইএমইএক্স ইলেকট্রোডের পরিচালন আয় বৃদ্ধি ও কাঁচামালের ব্যয় হ্রাসের ফলে শেয়ারপ্রতি মুনাফায় বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে এবং পরিচালন নগদ প্রবাহের ঋণাত্মক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে কোম্পানিটির নগদ প্রবাহ এখনো ঋণাত্মক থাকায় এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবস্থানে ফেরার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।
Posted ৫:২৬ পিএম | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.