নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | 19 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক : শেয়ারবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ও পুনঃপ্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আরপিও) মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারে কঠোর শর্ত আরোপের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, পাবলিক অফারের অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ঋণ পরিশোধে এবং ৭০ শতাংশ যৌথ উদ্যোগ, সহযোগী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ বা ব্যবসা অধিগ্রহণে ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া অর্থ ব্যবহারে পৃথক এসক্রো হিসাব, আর্থিক তথ্য যাচাই এবং নিরীক্ষিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আজ রোববার ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’-এর সংশোধিত খসড়া জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করেছে বিএসইসি। খসড়ার বিষয়ে মতামত, পরামর্শ বা আপত্তি জানানোর শেষ সময় আগামী ২ নভেম্বর। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খসড়া অনুযায়ী, ঋণ পরিশোধে ব্যবহৃত অর্থ নির্দিষ্ট প্রকল্প বা ব্যবসার ভারসাম্য রক্ষা, আধুনিকীকরণ, পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণের (বিএমআরই) কাজে ব্যয় করা হয়ে থাকতে হবে। ঋণের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করতে হবে। পরিশোধযোগ্য ঋণ খেলাপি বা পুনঃতফসিলকৃত হতে পারবে না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিংবা প্রধান নির্বাহীর স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্র বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে।
যৌথ উদ্যোগ, সহযোগী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ বা ব্যবসা অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ধরন ও সম্ভাব্য সুবিধা প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করতে হবে। পাবলিক অফারের অর্থ পুরোপুরি ব্যবহারের ৯০ দিনের মধ্যে বিএসইসির প্যানেলভুক্ত নিরীক্ষকের মাধ্যমে নিরীক্ষিত প্রতিবেদন কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া পাবলিক অফারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় তফসিলি ব্যাংকে পৃথক এসক্রো হিসাব খুলতে হবে। প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা উদ্দেশ্য ছাড়া ওই হিসাবের অর্থ উত্তোলন বা ব্যবহার করা যাবে না।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে আইপিও আবেদনের আগে বিএসইসির প্যানেলভুক্ত নিরীক্ষকের মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক ও অন্যান্য তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। এ যাচাইয়ের আওতায় আয়, পাওনা, মজুতপণ্য, ঋণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেন, কর, আইনি বিষয় এবং জালিয়াতির ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে। যাচাই প্রতিবেদন প্রসপেক্টাসে যুক্ত করার পাশাপাশি আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে।
কোম্পানির সর্বশেষ আর্থিক বছরে মূল ব্যবসা থেকে মুনাফা এবং আইপিও আবেদনের সময় পুঞ্জীভূত লোকসান না থাকার শর্তও প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান, অন্তত ৫০০ কোটি টাকার সম্পদসম্পন্ন মূলধননিবিড় কোম্পানি এবং নতুন প্রকল্পভিত্তিক কোম্পানিকে শর্তসাপেক্ষে ছাড় দিতে পারবে কমিশন। এসব কোম্পানিকে তালিকাভুক্তির পর সাধারণত দুই বছরের মধ্যে মুনাফায় যাওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করতে হবে।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্তত চারটি মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি পরম মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং দুটি আপেক্ষিক মূল্যায়ন পদ্ধতি হতে হবে।
সাধারণ বিনিয়োগকারী ও অনিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অতিরিক্ত চাহিদার ক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে শেয়ার বরাদ্দ এবং স্বয়ংক্রিয় বরাদ্দব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। লটারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও অ্যালগরিদম বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাধ্যমে যাচাই করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া আইপিও ও বিদ্যমান শেয়ার বিক্রির সমন্বিত পদ্ধতিতে কোম্পানির তালিকাভুক্তির সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইপিওর মাধ্যমে অন্তত ৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়তে হবে। উদ্যোক্তা বা বিদ্যমান শেয়ারধারীদের বিক্রির জন্য প্রতিশ্রুত শেয়ারের অন্তত ২৫ শতাংশ প্রথম লেনদেনের দিনে এবং অবশিষ্ট শেয়ার পরবর্তী ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে বিক্রি করতে হবে।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারের ৫০ শতাংশ প্রথম দিন থেকেই লেনদেনযোগ্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি শেয়ারের ২৫ শতাংশ ৬০ দিন এবং আরও ২৫ শতাংশ ৯০ দিনের জন্য বিক্রয়-নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।
কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের ক্ষেত্রে দুই বছরের বিক্রয়-নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের তারিখ থেকে তিন বছর অথবা তালিকাভুক্তির পর দুই বছর, যে সময়টি পরে শেষ হবে, সেই সময় পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এসব পরিবর্তন এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। জনমত গ্রহণ শেষে মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিএসইসি।
Posted ১০:১৭ পিএম | রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.