অতিরিক্ত দামে ডলার কেনা ও অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধানে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | 4 বার পঠিত | প্রিন্ট

অতিরিক্ত দামে ডলার কেনা ও অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধানে দুদক
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ, নিয়োগ বাণিজ্য এবং বৈদেশিক মুদ্রা কেনা ও আমদানি বিল পরিশোধের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কাজ করছে সংস্থাটি।

দুদক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পূবালী ব্যাংকের এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ২১১ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান চলছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এতে দুদকের ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একজন সহকারী পরিচালককে প্রধান অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

Responsive Ad Banner

অনুসন্ধানে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ব্যাংকটির অতিরিক্ত দামে বৈদেশিক মুদ্রা, বিশেষ করে মার্কিন ডলার কেনার বিষয়টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পূবালী ব্যাংকের একটি নির্দিষ্ট শাখা প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি দামে ডলার কিনেছে। ওই সময়ে ডলারের স্বাভাবিক মূল্য ১০৯ টাকা থেকে ১১০ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে থাকার কথা থাকলেও ব্যাংকটি প্রতি ডলার ১১৩ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা দরে কিনেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে।

এভাবে প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে ডলার কেনার কারণে প্রায় ২১১ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দুদক সূত্রের দাবি, ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছাড়া এত বেশি দামে ডলার কেনার ঘটনা ঘটানো সম্ভব কি না, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রকৃত কারণ কী এবং ব্যয় হওয়া অর্থের কোনো অংশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত হিসাবে কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন অনুসন্ধানকারীরা।

বৈদেশিক মুদ্রা কেনার পাশাপাশি ঋণপত্র বা এলসির মাধ্যমে আমদানি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত নিয়ম ও হারের বাইরে গিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা। আদায় করা অর্থের একটি অংশ সন্দেহজনকভাবে তৃতীয় পক্ষের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের লেনদেনের কারণে অর্থ পাচার বা মানিলন্ডারিংয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শুধু বৈদেশিক মুদ্রা কেনা ও আমদানি বিল নিষ্পত্তিই নয়, পূবালী ব্যাংকের ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, যথাযথ বা পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়া হয়েছে। বিতরণ করা কিছু ঋণের অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য ব্যাংকে থাকা দেনা বা দায় পরিশোধের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকটির নিজস্ব ঋণনীতি অনুসরণ না করে এসব ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করছেন অনুসন্ধানকারীরা।

পূবালী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল। এর আগে বীমা খাতের আলোচিত প্রতিষ্ঠান ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত মামলায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) দায়ের করা অভিযোগে তাঁর নাম এসেছিল। ওই ঘটনায় কোম্পানির আনুষ্ঠানিক তথ্য ও নথিপত্র জালিয়াতি কিংবা মুছে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগও তাঁর ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছিল।

Facebook Comments Box

Posted ১২:১৯ এএম | শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

sharebazar24 |

মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com