নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | 21 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে নতুন ও মানসম্মত কোম্পানির তালিকাভুক্তির যে সংকট চলছে, তা কাটিয়ে উঠতে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত ১০টি ব্লু-চিপ কোম্পানিকে ডিরেক্ট লিস্টিং অথবা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি, বহুজাতিক ও দেশীয় বড় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডিএসই আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মমিনুল ইসলাম বলেন, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো ভালো আইপিও বা নতুন লিস্টিং হয়নি। ফলে বাজারে নতুন ও মানসম্মত সিকিউরিটিজ আনার জন্য ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের নতুন বিধিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইপিও বিধিমালা সহজ করার কাজও চলছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে আমাদের লক্ষ্য অ্যাটলিস্ট ১০টি ব্লু-চিপ কোম্পানিকে ডিরেক্ট লিস্টিং অথবা আইপিওর মাধ্যমে বাজারে নিয়ে আসা। সেটা সরকারি কোম্পানি হতে পারে, বহুজাতিক কোম্পানি হতে পারে বা দেশীয় ব্লু-চিপ হতে পারে।’
ডিএসই চেয়ারম্যান জানান, ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের নতুন নিয়মের মাধ্যমে ভালো ও বড় কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে প্রবেশের পথ আরও সহজ করা হবে। পাশাপাশি দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের খসড়া বিধিমালা জনমতের জন্য প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত কোনো কোম্পানির নতুন মূলধনের প্রয়োজন না থাকলেও বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ
নতুন কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে আইপিও প্রক্রিয়াও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসই চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, ইস্যুয়াররা যাতে পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হয়, সে জন্য আইপিও বিধিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংশোধিত আইপিও বিধিমালা দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে জনমতের জন্য প্রকাশ করা হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মমিনুল ইসলাম বলেন, আইপিও ও ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রয়োগের জন্য ডিএসইর সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।
বড় কোম্পানির জন্য লিস্টিং ফিতে ৫০ শতাংশ ছাড়
বড় ও ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আকৃষ্ট করতে লিস্টিং ফিতে ছাড় দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
ডিএসই চেয়ারম্যান জানান, বন্ড লিস্টিংয়ের লিস্টিং ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ডিরেক্ট লিস্টিং বা আইপিওর জন্য আবেদন করলে তার লিস্টিং ফি ৫০ শতাংশ মওকুফ করা হবে।
তার মতে, এসব উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে নতুন সিকিউরিটিজ না আসায় যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।
১০ ব্লু-চিপ কোম্পানি আনতে সমন্বিত উদ্যোগ
২০২৭ সালের মধ্যে ১০টি ব্লু-চিপ কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনার লক্ষ্য অর্জনে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসই চেয়ারম্যান।
মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার, রেগুলেটর এবং স্টক এক্সচেঞ্জ এবং আমাদের মার্চেন্ট ব্যাংক যারা আছেন, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই লক্ষ্যটা আমরা পূরণ করতে সক্ষম হব।’
তিনি আরও জানান, বিএসইসিও বড় ও ভালো কোম্পানিগুলোকে দ্রুত পুঁজিবাজারে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিএসইসি জানিয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই, কিন্তু বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে, তাদের জন্য ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ রাখা হচ্ছে।
সভরেন বন্ডের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির পাশাপাশি সভরেন বন্ড ইস্যুর মাধ্যমেও পুঁজিবাজারের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএসই চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, সরকার এরই মধ্যে সভরেন বন্ড ইস্যুর পদক্ষেপ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আনা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে করপোরেট বন্ড ইস্যুর পথও সহজ হবে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও সভরেন বন্ড গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে অর্থ ফেরতের উদ্যোগ
পুঁজিবাজারে নতুন ও মানসম্মত কোম্পানি আনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন ডিএসই চেয়ারম্যান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, পাঁচটি ডিফল্টার ব্রোকারেজ হাউজের ১৭ হাজার ৯২৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর মধ্যে যাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, তাদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এ অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। এর ফলে ১৭ হাজার ৩৩২ জন বা প্রায় ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ পুরোপুরি ফেরত পাবেন বলে জানান তিনি।
মমিনুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে নতুন মানসম্মত কোম্পানি আনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাও অত্যন্ত জরুরি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে পুঁজিবাজারের স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি গতি ধরে রাখা সম্ভব হবে।
Posted ৬:৩৬ পিএম | মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.