নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ | 1 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) দেওয়া ২২৫ কোটি টাকা ফেরত আনতে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডকে (সিএমএসএফ) নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিনিয়োগকারীদের দাবি দ্রুত পরিশোধ এবং তহবিলের নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির এক নির্দেশনায় সিএমএসএফকে আইসিবির কাছ থেকে ধাপে ধাপে অর্থ প্রত্যাহারের পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এ পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে সিএমএসএফ নীতিমালা অনুযায়ী তহবিলের নগদ অর্থের অন্তত ৫০ শতাংশ বাজার মধ্যস্থতাকারীদের ঋণ হিসেবে দেওয়ার সুযোগ ছিল। উদ্দেশ্য ছিল মার্জিন ঋণের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তারল্য বাড়ানো। সেই নীতির আওতায় আইসিবিকে বিভিন্ন ধাপে মোট ২২৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়, যা পরে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে।
তবে বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিএমএসএফের অর্থ আর বাজার মধ্যস্থতাকারীদের ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে না। বরং এ তহবিল শুধুমাত্র বিনিয়োগকারীদের অনাদায়ী দাবি পরিশোধ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে।
সিএমএসএফ মূলত শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের অনাদায়ী নগদ ও বোনাস লভ্যাংশ, ফেরত না নেওয়া আইপিও আবেদন অর্থ এবং অবণ্টিত রাইট শেয়ারের অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে ২০২১ সালে গঠন করা হয়। বর্তমানে তহবিলটি বিনিয়োগকারীদের এসব অর্থ ও শেয়ারের অভিভাবক হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে সিএমএসএফকে আইনি ভিত্তি দিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ২০২৫ সালের আইনে সিএমএসএফকে একটি সংবিধিবদ্ধ তহবিল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিএসইসি যৌথভাবে আইনটি চূড়ান্ত করার কাজ করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে তহবিলের কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও তদারকিতে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিএমএসএফ বর্তমানে ৭২৭ কোটি টাকা নগদ অর্থ এবং ১৪ কোটি ৫৪ লাখ শেয়ার ধারণ করছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এসব শেয়ারের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৩৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। অন্যদিকে তহবিলটি ইতোমধ্যে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ৩২৯ কোটি ২ লাখ টাকার নগদ অর্থ ও শেয়ার ফেরত দিয়েছে। এছাড়া ব্যাংক আমানত ও বিভিন্ন বিনিয়োগ থেকে সুদ ও আয় বাবদ আরও ১৩১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আয় করেছে।
Posted ৬:৫১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.