নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | 65 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসি-র একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেড (CVOPRL)।
এর আগে ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ডিএসইর লিস্টিং অ্যাফেয়ার্স বিভাগ থেকেপাঠানো চিঠির জবাবে কোম্পানিটি ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি ব্যাখ্যাপত্র জমা দেয়, যা পরবর্তীতে ডিএসইতে গ্রহণ করা হয়।
দেশের অন্যতম পরিশোধন শিল্প প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (Eastern Refinery PLC) জানিয়েছে, চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে তাদের সলভেন্ট উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় কাঁচামাল ন্যাপথার দাম তৈরি পণ্য সলভেন্টের বিক্রয়মূল্য ছাড়িয়ে গেছে, যা কোম্পানির জন্য বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সম্প্রতি এক সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ন্যাপথার সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তবে আজ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এক ব্যাখ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছে, কাঁচামালের অপ্রাপ্তি নয়, বরং দামের তারতম্যই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
১০ মিলিয়ন লিটারের বেশি ন্যাপথা মজুদ থাকলেও কিনছে না কোম্পানি
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি থেকে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও ন্যাপথার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে—যা ১০ মিলিয়ন লিটারের চেয়েও বেশি। কোম্পানি বিবিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) থেকে এসব ন্যাপথা সংগ্রহ করে। কিন্তু সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ন্যাপথা কিনলে অস্বাভাবিক লোকসান গুনতে হবে—এমন আশঙ্কা থেকেই ক্রয় বন্ধ রাখা হয়েছে।
সংবাদ প্রতিবেদনে কোম্পানির চেয়ারম্যান মি. শামসুল আলম শামিমের বক্তব্য উল্লেখ করা হলেও কোম্পানি জানিয়েছে, ওই প্রতিবেদক চেয়ারম্যানের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগই করেননি।
মূল কারণ কী?
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ন্যাপথার দাম এখন এতটাই বেড়েছে যে তা তৈরি পণ্য সলভেন্টের বিক্রয়মূল্যের চেয়েও অনেক বেশি। স্বাভাবিক ব্যবসায়িক বিচারে এটি টেকসই নয়। তাই শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় এবং সচেতন আর্থিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে কোম্পানি সাময়িক সময়ের জন্য উৎপাদন বন্ধ রেখেছে যতক্ষণ না কাঁচামালের দাম বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়।
আশার আলো: দাম কমার ইঙ্গিত
পাশাপাশি কোম্পানি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে দাম নিম্নমুখী। মহান আল্লাহর রহমতে, খুব শিগগিরই স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ইস্টার্ন রিফাইনারি কর্তৃপক্ষ।
কোম্পানির আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী
ঘোষণায় আরও জানানো হয়েছে, শুধু সলভেন্ট কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কোম্পানির অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থাপনার কাজ স্বাভাবিকভাবে চলছে। কোম্পানির আর্থিক সচ্ছলতা এবং চলমান কার্যক্রম নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই যা ‘গোয়িং কনসার্ন’ বিষয়ে সন্দেহ তৈরি করবে। নিয়মিত মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি নেতিবাচক প্রভাব কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে খুব দ্রুত পুরোদমে উৎপাদন শুরু করা হবে।
প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করতে ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড কোম্পানি সেক্রেটারি খাজা মঈন উদ্দিন হোসেন স্বাক্ষরিত এক ব্যাখ্যাপত্র (ক্ল্যারিফিকেশন) ব্যবহার করা হয়েছে। ওই পত্রটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) জমা দেওয়া হয়েছে।
Posted ১:০৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.