নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 98 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিউজ ডেস্ক: সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ২ কোটি ১৮ লাখ বন্ধকি শেয়ার আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর নিয়ে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে Bangladesh Securities and Exchange Commission (বিএসইসি)।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত এই শেয়ার স্থানান্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ত Dhaka Stock Exchange (ডিএসই)-এর কর্মকর্তাদের কাছে সম্প্রতি ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগে ডিএসই কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হলেও তাদের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে এবার সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সেন্ট্রাল ফার্মার দুই উদ্যোক্তা-পরিচালক—মনসুর আহমেদ ও মোরশেদা আহমেদের শেয়ার হস্তান্তর। মনসুর আহমেদের ১ কোটি ৫১ লাখ এবং মোরশেদা আহমেদের ৬৭ লাখ শেয়ার আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টে স্থানান্তর করা হয়।
বিএসইসির অভিযোগ, কোম্পানিটি বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। এ অবস্থায় উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা পূরণ হয়নি। সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমতি প্রয়োজন। পাশাপাশি ৩০ শতাংশের কম শেয়ারধারী উদ্যোক্তাদের শেয়ার সাধারণত হস্তান্তরযোগ্য নয়। অভিযোগ উঠেছে, এসব বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই ডিএসই স্থানান্তরের অনুমোদন দিয়েছে।
উদ্যোক্তার অভিযোগ
সেন্ট্রাল ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনসুর আহমেদ কমিশনে দেওয়া এক আবেদনে দাবি করেন, ডিএসই নিয়ম ভেঙেই শেয়ার হস্তান্তরের অনুমতি দিয়েছে। তিনি জানান, ২০১৭ সালে আইডিএলসির সঙ্গে মার্জিন ঋণ চুক্তির আওতায় শেয়ারগুলো বন্ধক রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হলে শেয়ার হস্তান্তরে বিধিনিষেধ আরোপ হয়, যা ডিএসই ও আইডিএলসি উভয়েই অমান্য করেছে বলে তার অভিযোগ।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু সমাধানের আশায় কমিশনে আবেদন করেছি। সন্তোষজনক সমাধান না হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, কারণ এতে আমি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের চিফ অপারেটিং অফিসার আবুল আহসান আহমেদ জানিয়েছেন, কোম্পানি সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে এবং আদালতের অনুমতি নিয়েই স্থানান্তরের আবেদন করা হয়েছে। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ারও দাবি করেছেন, আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইনি কাঠামো মেনেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তবে বিএসইসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার এভাবে হস্তান্তরের সুযোগ নেই এবং ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতাও এখানে লঙ্ঘিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ফার্মার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে যৌথভাবে মাত্র ৭.৬৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৬.৯৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮৫.৩৯ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ লেনদেনে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৯ টাকা।
Posted ১০:৪২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.