বুধবার ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

ডিএসই এসএমই প্ল্যাটফর্মে ‘যোগ্য বিনিয়োগকারী’ নীতিমালায় পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ | 57 বার পঠিত | প্রিন্ট

ডিএসই এসএমই প্ল্যাটফর্মে ‘যোগ্য বিনিয়োগকারী’ নীতিমালায় পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পভিত্তিক এসএমই বোর্ডে গতি ফেরাতে নীতিগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে সেকেন্ডারি মার্কেটে ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে—এমন যেকোনো বিনিয়োগকারী এসএমই বোর্ডে শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ পাবেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৯৯০তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। এর আগে এসএমই বোর্ডে লেনদেনের জন্য বিনিয়োগকারীদের ন্যূনতম ৩০ লাখ টাকার পোর্টফোলিও থাকার শর্ত ছিল, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশি ও বিদেশি—উভয় শ্রেণির বিনিয়োগকারী যদি ডিএসইর সেকেন্ডারি মার্কেটে অন্তত ১০ লাখ টাকার বিনিয়োগ ধারণ করেন, তবে তারা এসএমই বোর্ডে ‘যোগ্য বিনিয়োগকারী (Qualified Investor)’ হিসেবে গণ্য হবেন। এ জন্য বিএসইসি ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জারি করা এসএমই সংক্রান্ত নির্দেশিকায় সংশোধন আনতে যাচ্ছে।

বিএসইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেয়ারনিউজকে জানান, আগের কমিশনের সময়ে আইনের মূল বিধিমালার সঙ্গে আলাদা নির্দেশনার মাধ্যমে যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছিল, তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। বর্তমান কমিশন সেই বিভ্রান্তি দূর করে বিধিমালা ও নির্দেশনার মধ্যে সামঞ্জস্য আনতেই এই নীতিগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে প্রণীত এসএমই বিধিমালায় ক্ষুদ্র মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের জন্য ন্যূনতম ১০ লাখ টাকার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন পৃথক নির্দেশনার মাধ্যমে এই সীমা বাড়িয়ে ৩০ লাখ টাকা করে। এতে মূল আইন ও নির্দেশনার মধ্যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এসএমই বোর্ডের লেনদেন ও তারল্যের ওপর। নতুন কমিশন এখন মূল বিধিমালার আলোকে আবারও ১০ লাখ টাকার সীমা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এসএমই বোর্ড মূলত ৫ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত পরিশোধিত মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর জন্য একটি বিকল্প মূলধন সংগ্রহের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগ শর্তটি আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল এবং এর ফলে এসএমই বোর্ডে তারল্য সংকট আরও তীব্র হয়। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ সহজ হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে নিস্তেজ থাকা এসএমই বোর্ডে লেনদেন বাড়বে বলে তারা আশাবাদী।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই এসএমই বোর্ড একাধিকবার নীতিগত পরিবর্তনের মুখে পড়ে। শুরুতে বিনিয়োগের ন্যূনতম সীমা ছিল ৫০ লাখ টাকা, যা পরে কমিয়ে ২০ লাখ করা হলেও আবার বাড়িয়ে ৩০ লাখ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। এই ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও আগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে এসএমই সূচক ‘ডিএসএমইএক্স’ প্রায় ২১ শতাংশ কমে ৮৫৫ পয়েন্টে নেমে আসে এবং দৈনিক গড় লেনদেন সীমিত হয়ে দাঁড়ায় মাত্র ৫ কোটি টাকায়। নতুন নীতিমালার ফলে ২০২৬ সালে এসএমই বোর্ডে পুনরায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

Facebook Comments Box

Posted ৭:৫০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com