রবিবার ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএসইসির প্রজ্ঞাপনে অনিশ্চয়তায় শেয়ারবাজারের মিউচুয়াল ফান্ড খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | 109 বার পঠিত | প্রিন্ট

বিএসইসির প্রজ্ঞাপনে অনিশ্চয়তায় শেয়ারবাজারের মিউচুয়াল ফান্ড খাত
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাম্প্রতিক জারি করা প্রজ্ঞাপন শেয়ারবাজারের ক্লোজ-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড খাতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে তালিকাভুক্ত ৩৪টি ক্লোজ-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩১টি ফান্ড অবসায়ন অথবা ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তরের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গত ১২ নভেম্বর প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী, কোনো ফান্ডের গড় বাজারদর যদি তার ইস্যু মূল্য অথবা নিট সম্পদ মূল্যের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি কমে যায় এবং সেই অবস্থা টানা ছয় মাস বজায় থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টিকে ইউনিট হোল্ডারদের নিয়ে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করতে হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১ এবং রিলায়েন্স ওয়ান—এই তিনটি ফান্ডই কেবল বিএসইসির নির্ধারিত সীমার ওপরে অবস্থান করছে। অপরদিকে বাকি ৩১টি ফান্ড বর্তমানে নির্ধারিত মানদণ্ডের নিচে লেনদেন হচ্ছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, এসব ফান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ইউনিট হোল্ডারদের অন্তত ৭৫ শতাংশ ভোটের সমর্থন প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে ইউনিট হোল্ডাররা চাইলে সভায় ফান্ড ম্যানেজার বা ট্রাস্টি পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও নিতে পারবেন।

Responsive Ad Banner

এ বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম গণমাধ্যমকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীরা তাদের ন্যায্য ডিভিডেন্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক মিউচুয়াল ফান্ড ঘোষিত নিট সম্পদ মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম দামে লেনদেন হচ্ছে, যা স্বাভাবিক বাজার আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আর কোনো ক্লোজ-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড অনুমোদন দেওয়া হবে না এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এই কাঠামো ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কমিশন এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের একটি অংশ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করছেন। তাঁদের মতে, একসঙ্গে বহু ফান্ড অবসায়ন বা ওপেন-এন্ডে রূপান্তরের পথে গেলে বাজারে বড় ধরনের বিক্রয়চাপ তৈরি হতে পারে।

এছাড়া বিশ্লেষকদের অভিমত, নিট সম্পদ মূল্যের স্বচ্ছ ও নির্ভুল হিসাব প্রকাশ নিশ্চিত করা এবং ফান্ডের মেয়াদ শেষে তা বাড়ানোর পরিবর্তে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। তা না হলে ভালো পারফরম্যান্স থাকা সত্ত্বেও দক্ষ ফান্ড ম্যানেজাররাও সামগ্রিক দুর্বলতার প্রভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

Facebook Comments Box

Posted ৭:০৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com