সোমবার ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং >>
ব্রেকিং >>

পাট খাতের সোনালী আঁশে নজিরবিহীন হিসাব অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | 99 বার পঠিত | প্রিন্ট

পাট খাতের সোনালী আঁশে নজিরবিহীন হিসাব অনিয়ম
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পাট খাতের কোম্পানি সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়ম ও ব্যাপক হিসাবগত অসঙ্গতি শনাক্ত করেছেন নিরীক্ষক। ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের এই প্রতিবেদনে নিরীক্ষক ‘কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন’ দিয়েছেন, যা কোম্পানির উপস্থাপিত তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রমাণযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের ইঙ্গিত দেয়।

নিরীক্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ২ কোটি ২০ লাখ টাকার স্বল্পমেয়াদি ঋণ দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত থাকলেও এ বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা বা সহায়ক নথি উপস্থাপন করতে পারেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

Responsive Ad Banner

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত ২৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকার পাওনা এবং ১১৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ক্রয় লেনদেনের পক্ষে কোনো বৈধ নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ। পাশাপাশি কাঁচা পাট সরবরাহকারীদের দেওয়া ২৫ কোটি ২৫ লাখ টাকার অগ্রিম অর্থের বিপরীতে কোনো চুক্তিপত্র, বোর্ড অনুমোদন কিংবা সরবরাহকারীদের লিখিত প্রাপ্তিস্বীকারও পাওয়া যায়নি।

একই ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে কর্মচারী ও বিভিন্ন স্টোর সরবরাহকারীকে দেওয়া ১৩ কোটি টাকার বেশি অগ্রিমের ক্ষেত্রেও। এসব অগ্রিম দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী অবস্থায় থাকলেও এর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হয়নি।

কোম্পানিটির অভ্যন্তরীণ লেনদেনেও স্বচ্ছতার ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। আন্তঃকোম্পানি পাওনা হিসেবে ৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা দেখানো হলেও এর মধ্যে ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকার বিপরীতে কোনো সঞ্চিতি রাখা হয়নি এবং অবশিষ্ট অর্থের ক্ষেত্রেও উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া গুদামে অগোছালোভাবে সংরক্ষিত ২৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার মজুদ পণ্যের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করতেও ব্যর্থ হয়েছেন নিরীক্ষক।

শ্রমিক কল্যাণ সংক্রান্ত বিষয়েও অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী ১ হাজার ৫৭৭ জন স্থায়ী কর্মীর প্রভিডেন্ট ফান্ডে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ হারে চাঁদা জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোম্পানি তা অনুসরণ করেনি, যা কর্মীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

এছাড়া শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের জন্য বরাদ্দ রাখা ১ কোটি ৯ লাখ টাকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শ্রমিকদের মধ্যে বণ্টন না করে কোম্পানির ব্যবসায়িক ও পরিচালন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিরীক্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা আইন লঙ্ঘনের শামিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৬৯ লাখ টাকার দাবিহীন ডিভিডেন্ড দেখানো হলেও তা কোন অর্থবছরের পাওনা—সে বিষয়ে কোনো রেকর্ড সংরক্ষণ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। নিরীক্ষক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, পর্যাপ্ত তথ্য গোপন রাখা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবের কারণেই এই ‘কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন’ দেওয়া হয়েছে, যা শেয়ারবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Facebook Comments Box

Posted ২:০৮ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com