নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | 58 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা এবং আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান সালমান ফজলুর রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত গ্রুপটির ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জব্দ হওয়া এসব সম্পদ বর্তমানে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের অধীনে রয়েছে। দুদকের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সের অধীনে এ পর্যন্ত মোট ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুদক করেছে ১১টি এবং অপর ১৭টি মামলা করেছে সিআইডি। এসব মামলার ভিত্তিতেই আদালতের নির্দেশে সম্পদগুলো জব্দ করা হয়।
দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, আদালতের আদেশে জব্দ বা অবরুদ্ধ হওয়া সম্পদের তথ্য কমিশনকে অবহিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। পাশাপাশি তদন্ত কর্মকর্তাদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আদালতের নির্দেশনা জানানো হয়। তিনি বলেন, জব্দকৃত সম্পদ যেন কোনোভাবে হস্তান্তর বা বিক্রি না হয়, তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১০৭টি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট, যেখানে মোট ৬৭.৫৫ বিলিয়ন টাকা বা প্রায় ৬ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা রয়েছে। এছাড়া ৯৪টি কোম্পানির শতভাগ শেয়ার, প্রায় ১,৯৭০.৪৬৭ শতাংশ জমি (আনুমানিক মূল্য ১১.৯৩ কোটি টাকা) এবং লন্ডনে অবস্থিত দুটি ফ্ল্যাট (আনুমানিক মূল্য ৭.৭৫ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড বা প্রায় ১২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা) জব্দ করা হয়েছে।
বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের উপ-পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি জাতীয় টাস্কফোর্স কাজ করছে। এ পর্যন্ত দুদক ১১টি মামলা দায়ের করেছে এবং আরও প্রায় এক ডজন মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব মামলায় বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে লন্ডনে দুটি ফ্ল্যাট শনাক্ত হওয়ায় অর্থ ফেরত আনার লক্ষ্যে দুটি এমএলএআর (Mutual Legal Assistance Request) পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর রপ্তানি জালিয়াতি ও এলসির বিপরীতে ঋণের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৯৩৯ কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সালমান এফ রহমানসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের করে দুদক। এসব মামলায় জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩ জুন অপ্রতুল জামানত ও জাল সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আইএফআইসি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে একটিতে ৬৭৮ কোটি টাকা এবং অন্যটিতে ৪৯৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি দায়ের করা আরেক মামলায় ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল বন্ডের বিপরীতে জাল জামানত ও অতিমূল্যায়িত সম্পত্তি দেখিয়ে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকিং ও করপোরেট খাতে এ ধরনের অনিয়ম দেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের আগস্ট মাসে সালমান ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
Posted ৬:১৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.