মঙ্গলবার ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

সূচক ও লেনদেন বাড়লেও স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ১০ জুলাই ২০২১ | 917 বার পঠিত | প্রিন্ট

সূচক ও লেনদেন বাড়লেও স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা
Responsive Ad Banner

লক ডাউনের মধ্যে গত সপ্তাহের দেশের শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। একসঙ্গে বেড়েছে অধিকাংশ কোম্পািনর দর ও বাজারমূলধন। বাজারের লক ডাউনের মধ্যে এই উত্থানকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেনা বাজার সংশ্লিষ্টরা ও অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে, লক ডাউনের মধ্যে যেসব কোম্পানির দর ও লেনদেনের ভিত্তিতে বাজারে উত্থান হয়েছে তা অস্বাভাবিক। লকডাউনকে ঘিরে যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিারাজ করছে। এ সময়ে বিনিয়োগ করার মতো পুঁজি তাদের কাছে আছে বলে মনে হয়না। এমতাবস্থায় তাদের অংশগ্রহণ কমার কথা। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে থাকলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছে কারা? আর যেসব কোম্পানির শেয়ার দর ও লেনদেনের উপর ভিত্তি করে সূচক ও লেনদেন সেগুলো খুব একটা ভালো কোম্পানি নয়। সাপ্তাহিক গেইনার তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলো দেখলেই বুঝা যায়। এসব কোম্পানিকে ভিত্তি করে যখন বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয় তার স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, লকডাউনের মধ্যে এমনিতেই লেনদেন কমার কথা। আর যদি ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন বৃহৎ মূলধনী কোম্পানিগুলোর দর ও লেনদেনের উপর ভিত্তি করে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হতো তাহলে তাকে স্বাভাবিক বলা যেতো এবং বাাজারও স্থিতিশীল হতো। দেখা যায় সাপ্তাহিক গেইনার তালিকায় ৫টিই ‘বি’ ক্যাটাগরির। তালিকায় ‘এ’ ক্যাটাগরির ৪টি থাকলেও সেগুলোর আসলে তেমন শক্ত ভিত্তি নেই। একটি রয়েছে নতুন কোম্পানি সোনালী লাইফ। এখন প্রশ্ন হলো শেয়ারবাজারে এত ভালো ভালো বৃহৎ মূলধন কোম্পানি থাকতে কিভাবে দুর্বল কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বাড়ছে। এর পেছনে বাজার খেলোরয়ারদের কারসাজি রয়েছে। তারা এসব শেয়ারের মাধ্যমে নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য কোশলে কলকাঠি নাড়ছে এবং নিজেদের মধ্যে শেয়ার লেনদেন করে দর বাড়িয়ে কৃত্রিমভাবে সূচক ও লেনদেন বাড়াচ্ছে। এমতাবস্থায় বাজারকে স্বাভাবিক তো বলাই যায়না, বরং এটা বাজারের জন্য একটা অশনী সংকেত। তবে নিয়ন্ত্রক উচিত বাজারে মনিটরিং বাড়ানো এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের উচিত গুজবে কান না দিয়ে শেয়ারটি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিয়ে বিনিয়োগ করা। তা-না হলে ঝুঁকিতে পরবে বিনিয়োগকৃত পুঁজি।

Responsive Ad Banner

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬২.২৯ পয়েন্ট বা ১.০১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২১২.৭৭ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ২৬.৭৯ পয়েন্ট বা ২.০৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪১.৫৫ পয়েন্ট। ডিএসই-৩০ সূচক ৩৯.৮৩ পয়েন্ট বা ১.৮০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়ে ২ হাজার ২৪৮.২১ পয়েন্টে।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৭৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩০টির বা ৬১.১৭ শতাংশের, কমেছে ১৩৬টির বা ৩৬.১৭ শতাংশের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১০টির বা ২.৬৬ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।

বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২৫৬ কোটি ২৭ লাখ ৯৪ হাজার ১২৩টি শেয়ার ১০ লাখ ২০ হাজার ৯১৮বার হাতবদল হয়, যা বাজারমূল্য৬ হাজার ৪১০ কোটি ৭০ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮৮ টাকা। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৫ হাজার ৬২৪ কোটি ৬৬ লাখ ২৫ হাজার ৬৩৩ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ৭৮৬ কোটি ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫৫ টাকা বা ১৩.৯৭ শতাংশ বেড়েছে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬০২ কোটি ৬৭ লাখ ৬৮ হাজার ৩৪৭ টাকা। যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৯৬ কোটি ৫১ লাখ ১১ হাজার ৯৩৯ টাকা বা ১৩.৯৭ শতাংশ।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ১৪ হাজার ২৮২ কোটি ১৩ লাখ ৪ হাজার টাকায়। আর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৫ লাখ ১৭ হাজার ১৮২ কোটি ১৮ লাখ ১ হাজার টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বিনিয়োগকারীরা ২ হাজার ৯০০ কোটি ৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বাজার মূলধন ফিরেছে।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ২৮৬ কোটি ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৯৪০ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৩৮৬ কোটি ১১ লাখ ৮৬ হাজার ২৩৪ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন ১০০ কোটি ৮ লাখ ১২ হাজার ২৯৪ টাকা বা ২৬ শতাংশ কম হয়েছে।

সপ্তাহটিতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২০৬.৯১ পয়েন্ট বা ১.১৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ১.৯৫ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসসিএক্স ১১৫.৫৯ পয়েন্ট বা ১.০৮ শতাংশ, সিএসই-৫০ সূচক ১৮.১১ পয়েন্ট বা ১.৪১ শতাংশ এবং সিএসআই ২৯.৮২ পয়েন্ট বা ২.৭৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১০ হাজার ৮১০.৮১ পয়েন্ট, ১ হাজার ৩০৬.০৭ পয়েন্টে এবং সিএসআই ১ হাজর ১২১.৬৭ পয়েন্টে। তবে সিএসই-৩০ সূচক ৯.৩৪ পয়েন্ট বা ০.০৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৭৩.৪৩ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩৩৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২১৩টির বা ৬৩.২০ শতাংশের দর বেড়েছে, ১১২টির বা ৩৩.২৪ শতাংশের কমেছে এবং ১২টির বা ৩.৫৬ শতাংশের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

শেয়ারবাজার২৪

Facebook Comments Box

Posted ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১০ জুলাই ২০২১

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com