মঙ্গলবার ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

দুই মিউচুয়াল ফান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ | 153 বার পঠিত | প্রিন্ট

দুই মিউচুয়াল ফান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু
Responsive Ad Banner

অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের দুই মিউচুয়াল ফান্ডের বিরুদ্ধে ৭২ কোটি টাকা স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। ফান্ড ২টি হলো- এমটিবি ইউনিট ফান্ড ও অ্যালায়েন্স সন্ধানী লাইফ ইউনিট ফান্ড। এই ২ ফান্ড থেকে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে ৭২ কোটি টাকা স্থানান্তরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)।

জানা যায়, সম্প্রতি উক্ত ফান্ড দুটির নিরীক্ষকও নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখানো প্রায় ৩৯ কোটি টাকার পাওনা অর্থের বিপরীতে পর্যাপ্ত প্রমাণ খুঁজে পাননি। ফান্ডটির নিরীক্ষক এসএফ আহমেদ অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের আর্থিক বিবরণীর ওপর মতামত দিয়েছেন।

Responsive Ad Banner

উক্ত মতামত থেকে জানা যায়, আর্থিক বিবরণীতে ৩৮ কোটি ৯১ লাখ ৬৬ হাজার ৪২৯ টাকা পাওনা হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ পাওনার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ নিরীক্ষক পাননি বলে তার মতামতে জানিয়েছেন। মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০০১ অনুসারে, কোনো কোম্পানিতে ফান্ডের মোট সম্পদের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে।

এমটিবি ইউনিট ফান্ডের মোট সম্পদের ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে এবং ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ রবি আজিয়াটার শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয়েছে। নিরীক্ষক এটিকে বিধিমালার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইভাবে অ্যালায়েন্স সন্ধানী লাইফ ইউনিট ফান্ডের মোট সম্পদের ১০ দশমিক ৮১ শতাংশ ইফাদ অটোজ, ১৩ দশমিক ৯০ শতাংশ অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ রবি আজিয়াটার শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

নিরীক্ষকের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাস্টির পক্ষ থেকে ৩৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার পাওনা অর্থসহ আরো বেশকিছু বিষয়ে সম্পদ ব্যবস্থাপকের কাছে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। বেশ কয়েকবার ট্রাস্টির পক্ষ থেকে সম্পদ ব্যবস্থাপকের কাছে এসব তথ্য চাওয়া হলেও তা দেয়া হয়নি বলে ট্রাস্টির পক্ষ থেকে বিএসইসিকে জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি ট্রাস্টির পক্ষ থেকে কাস্টডিয়ানের কাছ থেকে ফান্ড দুটির ব্যাংক বিবরণী সংগ্রহ করা হয়। এতে দেখা যায় ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে গত বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এমটিবি ইউনিট ফান্ড থেকে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের অনুকূলে মোট ৫৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।

একইভাবে একই সময়ের মধ্যে অ্যালায়েন্স সন্ধানী লাইফ ইউনিট ফান্ড থেকে সম্পদ ব্যবস্থাপক অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের অনুকূলে মোট ১৭ কোটি ২২ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এ দুই ফান্ড থেকে এর সম্পদ ব্যবস্থাপকের অনুকূলে ৭২ কোটি ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। হস্তান্তর করা এ অর্থের প্রকৃত সুবিধাভোগী কে সেটি জানানোর জন্য কাস্টডিয়ানের কাছে ট্রাস্টির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলেও এখন পর্যন্ত সাড়া পাওয়া যায়নি। নিরীক্ষকের মতামত ও ফান্ডের অর্থ সম্পদ ব্যবস্থাপকের অনুকূলে স্থানান্তরসহ সার্বিক বিষয়ে ট্রাস্টির পক্ষ থেকে কমিশনকে অবহিত করে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার আসাদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শেয়ারদর বেড়ে যাওয়ার কারণে একক কোম্পানিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ফান্ডের মোট সম্পদের ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া পাওনা অর্থের বিষয়ে নিরীক্ষকের মতামত ও ফান্ডের অর্থ সম্পদ ব্যবস্থাপকের অনুকূলে স্থানান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। সামনের সপ্তাহে ট্রাস্টি কমিটির সভার মাধ্যমে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুমোদন ও ইউনিটহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সব ধরনের সিকিউরিটিজ আইন পরিপালন করেই ফান্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনাধীন দুই ফান্ডের নিরীক্ষকের মতামত ও ট্রাস্টির চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কাছ থেকে এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি তলব শুরু করেছে কমিটি।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, বিনিয়োগকারী ও ইউনিটহোল্ডারদের স্বার্থরক্ষায় কমিশন সচেষ্ট আছে। ফান্ডের অর্থ সম্পদ ব্যবস্থাপকের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের বিষয়টি কমিশনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বর্তমানে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনাধীন ফান্ডের সংখ্যা দুটি। এর মধ্যে বেমেয়াদি এমটিবি ইউনিট ফান্ডের আকার ১০০ কোটি টাকা। ফান্ডটির সর্বশেষ ইউনিটপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ১০ টাকা ৬৬ পয়সা। এ ফান্ডটির উদ্যোক্তা মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। ফান্ডটির ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি) এবং কাস্টডিয়ানের দায়িত্বে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। বেমেয়াদি অ্যালায়েন্স সন্ধানী লাইফ ইউনিট ফান্ডের আকার ৫০ কোটি টাকা। ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি এনএভি ৯ টাকা ৩২ পয়সা। ফান্ডটির উদ্যোক্তা সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। এর ট্রাস্টি বিজিআইসি এবং কাস্টডিয়ানের দায়িত্বে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।

শেয়ারবাজার২৪

Facebook Comments Box

Posted ১০:৫০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৩

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com