নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ | 37 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা উত্থানের মাধ্যমে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দেশের শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক দর সংশোধনের চিত্র দেখা গেছে। এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তিনটি সূচকের মধ্যে দুটি সূচক কমেছে এবং একটি সূচক বেড়েছে। একই সঙ্গে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। এছাড়া লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদরও নিম্নমুখী ছিল।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে শেয়ারবাজার অতীতের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় বাজারে যেকোনো উত্থানের পর তার চেয়েও বড় পতন দেখা যেত। সে সময়ে বাজারে ধারাবাহিক দরপতন ছিল প্রায় নিয়মিত ঘটনা এবং পুরো শেয়ারবাজার কার্যত লাইফ সাপোর্টে চলে গিয়েছিল। টানা দরপতনের কারণে অসংখ্য বিনিয়োগকারী বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন। অনেকে পুঁজি হারিয়ে বাজার ছাড়তেও বাধ্য হন।
তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সেই অবস্থার থেকে অনেকটাই ভিন্ন। এখন বাজারে যে পরিমাণ দরপতন হচ্ছে, পরবর্তী সময়ে তার তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে সূচক এবং দৈনিক লেনদেন উভয়ই এখন রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি অবস্থান করছে। তাই বৃহস্পতিবার সূচকে কিছুটা সংশোধন হলেও ভবিষ্যতে বাজার আরও উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন। তবে যেকোনো পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে লেনদেন করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তাদের মতে, বিচক্ষণ বিনিয়োগই পুঁজি সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৮ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৪৩ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। তবে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ০ দশমিক ৮০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৬৮ দশমিক ৯২ পয়েন্টে। অন্যদিকে ব্লু-চিপ সূচক ডিএসই-৩০ ১৬ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৬২ দশমিক ০১ পয়েন্টে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৪টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৩টির দর বেড়েছে, ১৮৫টির দর কমেছে এবং ৪৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লেনদেনের দিক থেকেও কিছুটা নিম্নগতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট প্রায় ১ হাজার ৪৩৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৫৭৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ১৩৪ কোটি ১১ লাখ টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বৃহস্পতিবার মোট ৬০ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
সিএসইতে এদিন মোট ২৩১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১১০টির দর বেড়েছে, ৯৪টির দর কমেছে এবং ২৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪২ দশমিক ৪০ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৪০৭ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। উল্লেখ্য, আগের কার্যদিবসে একই সূচক ৯৮ দশমিক ০৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছিল।
Posted ৩:১৯ পিএম | বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.