ব্রেকিং >>
ব্রেকিং >>

রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি বারভিডার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | 5 বার পঠিত | প্রিন্ট

রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি বারভিডার
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) আমদানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে শর্তসাপেক্ষে আমদানির সুযোগ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। সংগঠনটির মতে, ইলেকট্রিক ভেহিকেল কেবল পরিবহনের একটি নতুন প্রযুক্তি নয়; এর সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কর্মসংস্থান, কারিগরি দক্ষতা এবং ভবিষ্যতের দেশীয় অটোমোবাইল শিল্প গড়ে ওঠার বিষয়ও সরাসরি যুক্ত।

বারভিডা জানিয়েছে, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে আমদানিকৃত রিকন্ডিশন্ড গাড়ির জনপ্রিয় ও টেকসই ১৫০০ সিসির গাড়িতে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর পর মধ্যবিত্ত মানুষের গাড়ি কেনার স্বপ্ন আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠার বিষয়ে গত ২০ জুন ২০২৬ তারা সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছিল। এর ৮০ দিন পর আবারও রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাতের বর্তমান সংকট ও ব্যবহৃত ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানির নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

Responsive Ad Banner

সংগঠনটির ভাষ্য, প্রায় পাঁচ দশক ধরে নানামুখী নীতি বৈষম্য, উচ্চ শুল্ক ও নিয়ন্ত্রক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জাপান থেকে আমদানিকৃত রিকন্ডিশন্ড মোটরযান দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে। সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত যানবাহন সরবরাহের মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা গতিশীল করার পাশাপাশি এ খাত উদ্যোক্তা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এর সঙ্গে ওয়ার্কশপ, যন্ত্রাংশ, সার্ভিসিং, পরিবহন ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন সহযোগী শিল্পও গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে সরকারকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও খাতটির অবদান রয়েছে।

বারভিডা বলেছে, অটোমোবাইল প্রযুক্তি গত পাঁচ দশকে ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। ইঞ্জিন, জ্বালানি ও গাড়ির কাঠামোগত প্রযুক্তির বিবর্তনের সঙ্গে নির্মাতারা পরিবেশ ও গ্রাহকবান্ধব যানবাহন তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছে। জাপানের মতো প্রযুক্তিনির্ভর অটোমোবাইল উৎপাদনকারী দেশ ১৯৯৫ সালে ইভিটি-ও প্রযুক্তি এবং ১৯৯৭ সালে হাইব্রিড প্রযুক্তির গাড়ির গণউৎপাদনের মাধ্যমে নতুন যুগের সূচনা করে।

সংগঠনটির দাবি, প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের প্রতিটি পর্যায়ে বাংলাদেশে জাপানি রিকন্ডিশন্ড মোটরযান ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীদের নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষিত কারিগরি জনবল এবং সার্ভিসিং অবকাঠামোর নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে নীতিগত বৈষম্যের কারণে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড প্রযুক্তির সুফল পেতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত গ্রাহকদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে।

হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে দীর্ঘদিনের বাধা

বারভিডা জানায়, ২০০৯ সালে শুল্ক প্রণোদনাসহ নতুন হাইব্রিড গাড়ি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হলেও নতুন প্রযুক্তি, কারিগরি সক্ষমতা এবং হাইব্রিড ব্যাটারির জীবনচক্র নিয়ে নানা আশঙ্কা ও উদ্বেগ দেখিয়ে তখন রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়নি। সংগঠনটির দাবি, প্রযুক্তিকে উপেক্ষা করে দেওয়া ওই নিষেধাজ্ঞার পেছনেও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অসম ব্যবহার ও পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতির প্রভাব ছিল।

পরবর্তী সময়ে হাইব্রিড প্রযুক্তি, বিশ্ববাজারে হাইব্রিড গাড়ির বিস্তার এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি তথ্য-উপাত্ত বারভিডার পক্ষ থেকে বহুবার উপস্থাপন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ইতিবাচক নেতৃত্বে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব মোটরযানের বাজার এবং ব্যবহার উভয়ই সম্প্রসারিত হয়।

বারভিডার মতে, তখন থেকে রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি রাষ্ট্র এবং মধ্যবিত্ত মানুষের আর্থিক জীবনে ব্যয় সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে শুরু করে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

ব্যবহৃত ইভি আমদানি হঠাৎ নিষিদ্ধ

বারভিডা বলেছে, আগের আমদানি নীতির আওতায় ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি শুরু হলেও গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত নতুন আমদানি নীতি আদেশে ২০২৬-২০২৯ মেয়াদে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সংগঠনটির অভিযোগ, এর মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তির মোটরযান ব্যবহারের সম্ভাবনা থেকে গ্রাহকদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ একটি মহলকে সুবিধা দেওয়ার অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার পুরোনো চিত্রের কথাই আবার মনে করিয়ে দেয়। বাংলাদেশে মোটরযানের ভিত্তি গড়ে তুলতে যারা দীর্ঘদিন ধরে নানা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের একপেশে ও আইনগত বৈষম্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বারভিডা।

বিভিন্ন দেশে শর্তসাপেক্ষে ব্যবহৃত ইভি আমদানি

বারভিডা জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন ইভি উৎপাদনকারী দেশ থেকে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক ভেহিকেল আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে। জাপানের টয়োটা, নিশান, সুবারু, লেক্সাস ও হোন্ডার পাশাপাশি চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকেও ইভি রপ্তানির প্রবাহ ক্রমাগত বাড়ছে।

সংগঠনটির উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় অর্থনীতি, পরিবেশ এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ শর্তসাপেক্ষে ব্যবহৃত ইভি আমদানির সুযোগ রেখেছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১০ বছর বয়সী ইভি আমদানি করা যায়। জর্জিয়ায় বয়সসীমা ছয় বছর, কেনিয়ায় আট বছর এবং সৌদি আরবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ব্যবহৃত ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে।

নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট বয়সসীমা ছাড়াই ব্যবহৃত ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে। পাকিস্তানে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সর্বোচ্চ তিন বছর বয়সী, শ্রীলঙ্কায় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বয়সী এবং কাজাখস্তানে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করে ব্যবহৃত ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় অভ্যন্তরীণ বিধিবিধান অনুসরণ সাপেক্ষে পাঁচ বছর বয়সসীমার ইভি আমদানি করা যায়। রাশিয়ায় নির্দিষ্ট সর্বজনীন বয়সসীমা না থাকলেও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে।

বারভিডার মতে, বিভিন্ন দেশ তাদের জনপদ, জলবায়ু ও জনজীবনের বাস্তবতা বিবেচনা করে গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগের ভিত্তিতে নানা মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবহৃত ইলেকট্রিক ভেহিকেল আমদানির কাঠামো তৈরি করেছে। অথচ বাংলাদেশে গবেষণা ও বাস্তবতার পরিবর্তে অল্প কয়েকজনের একচেটিয়া ব্যবসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই যেন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তারা মনে করে। সংগঠনটি বলেছে, মুক্তিযুদ্ধ ও জনগণের রাষ্ট্র নির্মাণে দীর্ঘ আত্মত্যাগ এবং রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে এ ধরনের বৈষম্য একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ইভি শুধু গাড়ি নয়, নতুন শিল্প-অর্থনীতির সূচনা

বারভিডার বক্তব্য, ইভিকে শুধু একটি গাড়ি হিসেবে দেখলে এর সম্ভাবনাকে সীমিত করা হবে। এটি একটি নতুন শিল্প ও অর্থনীতির সূচনা করতে পারে। তাই আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ না করে নিরাপত্তা, পরিবেশবান্ধবতা, নির্দিষ্ট বয়সসীমা ও কারিগরি সক্ষমতা বিবেচনায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও শর্তসাপেক্ষে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ পুনর্বহাল করা প্রয়োজন।

সংগঠনটি বলেছে, নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কারণ নতুন ইভির দাম এখনো মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে। তুলনামূলক কম দামে রিকন্ডিশন্ড ইভি অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজনকারী পেশাজীবী ও সাধারণ ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। এতে ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন পরিবহন ব্যয়ও কমবে।

এ ছাড়া ইভির বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে মোটরযান খাতে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের সরকারি লক্ষ্য অর্জনেও সহায়তা করবে বলে মনে করে বারভিডা।

বৈদেশিক মুদ্রা ও জ্বালানি সাশ্রয়ের সুযোগ

বারভিডা বলেছে, প্রতিবছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে তরল জ্বালানি আমদানি করতে হয়। দেশে প্লাগ-ইন হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।

তাই ইভিকে কেবল একটি পরিবহন প্রযুক্তি হিসেবে না দেখে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করে সংগঠনটি।

চার্জিং অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল তৈরির প্রয়োজন

বারভিডার মতে, দেশে পর্যাপ্তসংখ্যক ইভি চলাচল না করলে চার্জিং স্টেশন স্থাপন অর্থনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে না। ফলে ইভির একটি বিস্তৃত বাজার তৈরি করা চার্জিং অবকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলার অন্যতম পূর্বশর্ত।

একই সঙ্গে ইভি প্রযুক্তি প্রচলিত অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনের গাড়ির তুলনায় আলাদা হওয়ায় নতুন ধরনের দক্ষ জনবল তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। এ খাতে উচ্চ-ভোল্টেজ নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, ব্যাটারি ডায়াগনস্টিক, মোটর ও কন্ট্রোলার সার্ভিসিং, সফটওয়্যার ডায়াগনস্টিক, চার্জার মেরামত, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার জ্ঞান এবং ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ তৈরি হবে।

সংগঠনটির মতে, রিকন্ডিশন্ড ইভির একটি বৈজ্ঞানিক ও নিয়ন্ত্রিত বাজার গড়ে উঠলে দেশের তরুণদের জন্য নতুন ধরনের কারিগরি দক্ষতা অর্জন এবং বড় পরিসরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

দেশীয় ইভি শিল্পের ভিত্তি তৈরির সুযোগ

বারভিডা মনে করে, আমদানি, ব্যবহার, সার্ভিসিং, যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জন, সংযোজন এবং উৎপাদনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই একটি দেশ ধীরে ধীরে নিজস্ব অটোমোবাইল শিল্প গড়ে তুলতে পারে। আর এই শিল্পের বিকাশের জন্য একটি শক্তিশালী বাজারভিত্তি প্রয়োজন।

তাদের মতে, রিকন্ডিশন্ড ইভিকে দেশীয় ইভি শিল্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে শিল্প বিকাশের প্রাথমিক সেতু হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

ইলেকট্রিক বাস-ট্রাক আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের পরও সাড়া নেই

বারভিডা সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা হিসেবে ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানির বিষয়টিও তুলে ধরেছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল ২০২৬ শিক্ষার্থী, সাধারণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানিতে সম্পূর্ণ শুল্ক-কর প্রত্যাহার করা হয়।

তবে এখন পর্যন্ত সরকারের ওই সিদ্ধান্তের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা বেসরকারি উদ্যোক্তারা কোনো ইলেকট্রিক বাস বা ট্রাক আমদানি করেছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বারভিডা।

সংগঠনটি প্রশ্ন তুলেছে, সম্পূর্ণ শুল্ক-কর প্রত্যাহারের পরও কেন ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানি শূন্যের কোঠায় রয়েছে। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কোনো পর্যালোচনা আছে কি না, তা তাদের জানা নেই। তবে তাদের পর্যবেক্ষণ হলো, ইলেকট্রিক গাড়ি নিয়ে এখনো সাধারণ মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত আস্থা তৈরি হয়নি এবং অবকাঠামোর অপ্রতুলতাই এর প্রধান কারণ। এ পরিস্থিতিতে ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানি না হওয়ার কারণ অনুসন্ধানের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

দেশে ইভির সংখ্যা এখনো হতাশাজনক

বারভিডা জানিয়েছে, বাংলাদেশে সড়কে ইলেকট্রিক ভেহিকেলের উপস্থিতিও এখনো অত্যন্ত সীমিত। ইজিআরএ-এর তথ্য উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে পাঁচটি, ২০২২ সালে আটটি, ২০২৩ সালে ৬১টি, ২০২৪ সালে ২৬৭টি এবং ২০২৫ সালে ১৭৪টি ইলেকট্রিক যান এসেছে। পাঁচ বছরে মোট ৫১৫টি ইলেকট্রিক ভেহিকেলের মধ্যে ২৭৩টি মোটরসাইকেল, ১৬০টি হার্ড-টপ জিপ, ৭৭টি প্রাইভেট কার, তিনটি মাইক্রোবাস এবং একটি করে ডেলিভারি ভ্যান ও অটোরিকশা রয়েছে।

ব্যবহৃত ইভি আমদানিতে আট দফা প্রস্তাব

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে নন-মোটরাইজড সমাজ থেকে মোটরাইজড সমাজে রূপান্তরের ক্ষেত্রে দেশীয় উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ পথচলার কথা তুলে ধরে বারভিডা ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির জন্য একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রথম প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বয়সী ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে ইভি ব্যাটারির ন্যূনতম স্টেট অব হেলথ (এসওএইচ) ৭০ শতাংশ নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষায় স্থানীয়ভাবে সংযোজিত ও উৎপাদিত এবং আমদানিকৃত নতুন ইলেকট্রিক ভেহিকেলের ব্যাটারির আয়ুষ্কাল সম্পর্কে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় প্রস্তাবে আমদানির আগে অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে কার্যকর পরিদর্শন ও প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।

চতুর্থ প্রস্তাবে বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, গুরুতর দুর্ঘটনা বা কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইভি আমদানি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পঞ্চম প্রস্তাবে ইভি ব্যাটারির জন্য ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ অপসারণের কাঠামো প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে।

ষষ্ঠ প্রস্তাবে চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং, ব্যাটারি ডায়াগনস্টিক ও পুনর্ব্যবহার খাতে প্রকৃত বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে শুল্ক-করভিত্তিক প্রণোদনা অব্যাহত রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

সপ্তম প্রস্তাবে চলতি বাজেটে ইলেকট্রিক ভেহিকেলের জন্য মূল্যস্তরভিত্তিক যে শুল্ক-কর কাঠামো করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সেটির যৌক্তিক বিন্যাস এবং শুল্ক কাঠামোর স্তর পুনর্নির্ধারণের সুপারিশ করেছে বারভিডা।

অষ্টম প্রস্তাবে নির্দিষ্ট সময় পর নীতির ফলাফল মূল্যায়ন করে বয়সসীমা এবং অন্যান্য শর্ত পুনর্বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে ভারসাম্যপূর্ণ নীতির আহ্বান

বারভিডার আবেদন, বাংলাদেশ এমন একটি সময় অতিক্রম করছে যখন একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি সাশ্রয়, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চার্জিং অবকাঠামো নির্মাণ এবং ভবিষ্যতের ইভি শিল্পের ভিত্তি তৈরির মতো একাধিক লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। তাই এসব বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করেই ইভি-সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সংগঠনটি বলেছে, তারা সরকারের নীতির বিরোধিতা করছে না। বরং ইভি শিল্পের জন্য তাদের চাওয়া একটি বাস্তবসম্মত, ভারসাম্যপূর্ণ ও ভবিষ্যতমুখী নীতি কাঠামো।

বারভিডার ভাষ্য, একটি নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে বাজারকে থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু সঠিক নীতি একটি শিল্পকে গড়ে তুলতে পারে।

এ অবস্থায় আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করে ‘শর্তসাপেক্ষে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানিযোগ্য’—এমন প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি এবং একটি সুষম নীতিমালা প্রণয়নের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক ভেহিকেল আমদানির অনুমতি পুনর্বহালের জন্য গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরকারের কাছে এ আবেদন জানিয়েছে বারভিডা।

Facebook Comments Box

Posted ৭:২৭ পিএম | বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com