নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬ | 0 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের অনিরিক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটি লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরেছে। কাঁচামাল ও অন্যান্য উৎপাদন উপকরণের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটির মূল পরিচালন কার্যক্রমে বড় ধরনের লোকসান হলেও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ থেকে আয়, স্থায়ী আমানতের সুদ এবং ভবন ভাড়া থেকে অর্জিত অর্থের সুবাদে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ইতিবাচক হয়েছে। তবে আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক অবস্থানে নেমেছে। একই সঙ্গে কমেছে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি)।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ওয়েবসাইটে কোম্পানিটির প্রকাশিত চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে জিকিউ বলপেনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬ পয়সা। অথচ আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৫১ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয়ে ৫৭ পয়সার ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এর মাধ্যমে আগের বছরের প্রথম প্রান্তিকের লোকসান কাটিয়ে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে মুনাফায় ফিরেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে শেয়ারপ্রতি আয়ে উন্নতি হলেও কোম্পানিটির পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহের পরিস্থিতি বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক ৬ পয়সা হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই নগদ প্রবাহ ছিল ধনাত্মক ৪৩ পয়সা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ৪৯ পয়সা কমেছে।
এদিকে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে জিকিউ বলপেনের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৪২ টাকা ৭ পয়সা। এর আগে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১৪৩ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ১ টাকা ৫৩ পয়সা কমেছে।
মুনাফায় ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করে কোম্পানিটি জানিয়েছে, আলোচ্য সময়ে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে উল্লেখযোগ্য লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে কাঁচামাল ও অন্যান্য উৎপাদন উপকরণের ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিচালন কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে কোম্পানিটির মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে প্রত্যাশিত আয় অর্জন সম্ভব হয়নি।
তবে মূল ব্যবসায় লোকসান হলেও অন্যান্য উৎস থেকে অর্জিত আয় কোম্পানিটির সামগ্রিক আর্থিক ফলাফলে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয়। পাশাপাশি স্থায়ী আমানত বা এফডিআর থেকে পাওয়া সুদ এবং রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত জিকিউ শেফালী টাওয়ার থেকে অর্জিত ভাড়া আয়ও কোম্পানিটির মুনাফায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, এসব আয়ের পাশাপাশি অন্যান্য অপরিচালন আয় মূল পরিচালন কার্যক্রমের লোকসানের একটি অংশ সমন্বয় করতে সহায়তা করেছে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য লোকসান সত্ত্বেও সামগ্রিক আয়-ব্যয়ের হিসাবে কোম্পানিটি ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
মূলত পরিচালন কার্যক্রমের ফলাফল এবং বিনিয়োগ, সুদ, ভবন ভাড়াসহ অন্যান্য উৎস থেকে অর্জিত আয়ের সম্মিলিত প্রভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ৬ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
তবে শেয়ারপ্রতি আয় ইতিবাচক হলেও পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক হওয়া এবং নিট সম্পদমূল্য কমে যাওয়ার বিষয়টি কোম্পানিটির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়েছে।
Posted ১২:৫১ পিএম | সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.