নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | 37 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের সংস্কার ও নতুন উদ্যোগের কথা বারবার বলা হলেও বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে বর্তমান ধারাবাহিক পতন ঠেকাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। গতকাল বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এক বছরের মধ্যে শেয়ারবাজারের চেহারা বদলে যাবে। ওই অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যানসহ আরওหลาย গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বক্তব্য দেন। কিন্তু দুঃখজনক হলো, সবাই বাজার নিয়ে ইতিবাচক কথা বললেও বর্তমান ধারাবাহিক পতন ঠেকাতে কোনো ইতিবাচক বক্তব্য বা পরিকল্পনার কথা আসেনি। ফলে আজও বাজারের পরিস্থিতি সন্তোষজনক হয়নি; বরং বাজার পতনেই ঘুরপাক খাচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ অনুষ্ঠানে বক্তাদের উচিত ছিল বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে কথা বলা। বিশেষ করে বিএসইসি ও ডিএসইর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য আসা প্রয়োজন ছিল। প্রকৃতপক্ষে তারা মুখে বাজার স্থিতিশীলতার কথা বললেও বাজারের প্রতি তাদের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। তাদের কাছে মাস শেষে বেতন পাওয়াটাই মূল বিষয়; বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না বা লাভবান হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তাদের তেমন মাথাব্যথা নেই। বর্তমানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কথাবার্তা দেখে মনে হচ্ছে, শেয়ালের কাছে মুরগির বাগান দেয়া হয়েছে। বাজারে একটি চক্র নানা ধরনের ফন্দিফিকির করে বাজারকে স্থিতিশীল হতে দিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে যদি বলা হয় বাজারকে নিজস্ব গতিতে চলতে দেয়া হচ্ছে, তাহলে কারসাজিচক্র আরও বেশি সুযোগ পেয়ে যাবে। তাদের সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় বাজারের অবস্থা দিন দিন তলানীর দিকে এগিয়ে চলছে।
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, আগামী দিনের কথা বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বর্তমান পতন ঠেকানোর দায় থেকে সরে যাচ্ছে। নতুন কমিশনের সময়ে উত্থানের তুলনায় পতনের মাত্রা অনেক বেশি। বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে না পারলে তাদের চেয়ার আঁকড়ে ধরে থাকা উচিত নয়। ধারাবাহিক পতনে আমাদের লোকসান দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। অথচ তারা পতন না ঠেকিয়ে সংস্কার ও বক্তৃতা দিয়ে নিজেদের দায় সারছে।
এদিকে, আজ (০৫ অক্টোবর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেন কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৭.০৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৪৫.২৭ পয়েন্টে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৯.৮৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৯.৭৯ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ৩.৫৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৮১.৭৫ পয়েন্টে।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫৪টির দর বেড়েছে, ২৮৪টির দর কমেছে এবং ৪৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইতে এদিন প্রায় ৫৩৭ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৫৪২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন কমেছে প্রায় ৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
এদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে ১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।
আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৫৩টির, কমেছে ১২০টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২২টির।
এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪০.২১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬২০.৫৫ পয়েন্টে। আগের দিন সূচক সিএএসপিআই ১৭১.২০ পয়েন্ট কমেছিল।
Posted ৩:৩৬ পিএম | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.